অনলাইন ডেস্ক: একসময় যিনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের জন্য দেশজুড়ে ‘জননায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, সেই আলোচিত সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা এখন জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার কাঠগড়ায়। ক্ষমতার অপব্যবহার, ভূমি দখল এবং অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে অন্যতম প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপায়ন গ্রুপের বিতর্কিত প্রজেক্ট ‘রূপায়ন সিটি’তে অবৈধ ভূমি দখল ও নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি আত্মসাতের পেছনে রোকন উদ-দৌলার সক্রিয় ভূমিকা খুঁজে পেয়েছে দুদক। অবসরের পর তিনি ওই গ্রুপের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যখন রাজউকের লিগ্যাল অফিসার বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন, তখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে রূপায়ন গ্রুপকে অবৈধ ভূমি নকশা ও নথিপত্র অনুমোদনে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন।
দুদকের দায়ের করা এই বহুল আলোচিত মামলায় রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, তার স্ত্রী, পুত্র ও ভাইসহ মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশ করে জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ১৬ একর জমিকে নথিপত্রে ৪১ একরে রূপান্তর করেছেন। এই অতিরিক্ত জমির একটি বড় অংশই হলো গাজীপুর সংলগ্ন ভাওয়াল এস্টেটের সরকারি দেবোত্তর সম্পত্তি।
এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ফলে সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একসময় সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা এই ম্যাজিস্ট্রেটের ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে এ ধরনের জালিয়াতি ও ভূমি দখলের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক সময়ের ‘ভেজালবিরোধী নায়ক’ কীভাবে নষ্ট ভাবমূর্তির একটি করপোরেট গ্রুপের অবৈধ স্বার্থ রক্ষাকারী হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে এখন চারদিকে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।



