
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজারে কিছু মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি, ওজনে কম দেওয়া এবং খাস মাংসের সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি জোরপূর্বক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিবাদ করলে ক্রেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। এ ঘটনায় বাজারে নিয়মিত প্রশাসনিক অভিযান ও নির্ধারিত মূল্য তালিকা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাযকিয়াতুল উম্মাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. মোকাদ্দাছ হোছাইন তোরাবী একটি স্ট্যাটাসে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
তিনি লিখেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারের উত্তর পাশের একটি দোকান থেকে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা দরে খাস মাংস কেনেন। মাংস মাপার পর বিক্রেতা অতিরিক্ত হিসেবে একটি বড় চর্বির টুকরা দিয়ে বলেন, এটি বেশি দিলাম।পরে পাশের একটি মুরগির দোকানে মাংস মেপে তিনি দেখতে পান, ওজন হয়েছে ৯৯৮ গ্রাম। এরপর মাংস ও চর্বি আলাদা করে মাপ দিলে দেখা যায়, আধা কেজিরও বেশি ছিল চর্বি।
এ বিষয়ে বিক্রেতাকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।মঈন উদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা অভিযোগ করেন ২কেজি মাংস কিনলে সেখানে জোর করে দিয়ে দেয় চর্বি, প্রতিবাদ করলে সবাই মিলে একসাথে দেয় হুমকি। তখন নিরবে ওদের দেওয়া চর্বি সহ নিয়ে আসতে হয়।
চাতরী চৌমুহনী বাজারের মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অহরহ অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই।চৌমুহনী থেকে সকল মাংস ক্রেতারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, চাতরী চৌমুহনী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো দাম নেওয়া, অতিরিক্ত চর্বি দেওয়া এবং ওজনে কারচুপির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তবে অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে।ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং, মূল্য তালিকা টানানো এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



