ঢাকা বিভাগ

লাইসেন্স ছাড়াই রমরমা ব্যবসা;পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ 

মাহবুব আলম মানিক :  আশুলিয়ার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে পদ্মা গেস্ট হাউজ ও হিমালয় গেস্ট হাউজ এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর ছাড়পত্র, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজ এসব শর্ত পূরণ করেছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় এসব গেস্ট হাউজে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষের স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান এবং ঘন ঘন যাতায়াত এলাকাবাসীর মধ্যে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পারিবারিক পরিবেশের নিকটে এ ধরনের অভিযোগ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও গেস্ট হাউজ দুটিতে অনৈতিক কার্যকলাপ ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের রুম ভাড়া দেওয়া সহ ব্যাপক  অভিযোগ রয়েছে। 

একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রশাসনের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈধ কাগজপত্র ও নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি। তারা মনে করেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে এবং সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তবে তা দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজের বৈধতা, লাইসেন্স, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথি নিবন্ধন পদ্ধতি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদনবিহীন আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ বা তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসাকে আইনের আওতায় এনে জনস্বার্থ ও সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা হবে। 

বাইপাইলে অবস্থিত পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজের অনুমোদন এর বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মো: কাজল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি  জানান, কাগজ পত্র কি আছে আমার জানা নেই। তবে এখানকার  স্থানীয় অনেক সাংবাদিক আমাদের অফিসে এসে  চা পান খেয়ে যায় আপনারও দাওয়াত রইলো সময় করে আইসেন একদিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button