আইন-শৃঙ্খলাজামালপুর

জামালপুর সদরে ইটভাটার চিমকি গুড়িয়ে দেওয়ার ২৪ ঘন্টা পূনরাই তৈরী

মো: মোশারফ হোসেন সরকার: আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি আওয়ামীলীগ নেতারচিমনি গুড়িয়ে দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ড্রামের চিমনি বসিয়ে ফের চালু অবৈধ ইটভাটা।

জামালপুর সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে আদালতের নির্দেশে চিমনি ভেঙে দেয়ার মাত্র একদিন পরই পুনরায় অবৈধভাবে ইট পোড়ানো শুরু করেছে ‘জিরন’ নামে একটি ইটভাটা। এবার পরিবেশের জন্য আরও ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে একটি চিমনির পরিবর্তে বসানো হয়েছে দুটি ড্রামের চিমনি। প্রকাশ্যেই আদালতের আদেশ অমান্য করে ইট প্রস্তুত অব্যাহত রাখায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার রায়ের নেতৃত্বে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ ইটভাটার চিমনি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে।কিন্তু আদালতের নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করে পরদিনই ভাটাটিতে বসানো হয় দুটি ড্রামের অস্থায়ী চিমনি। এরপর থেকেই আবারো পুরোদমে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে সিমেন্টের চিমনি থাকার সময়ও কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের ফসল নষ্ট হতো, গাছের ফল ঝরে পড়ত, নারিকেল গাছে পানি থাকত না। শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতেন। এখন নিচু উচ্চতার দুটি ড্রামের চিমনি বসানোয় বিষাক্ত ধোঁয়া আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে ইটভাটার মালিক নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা খোরশেদ মেম্বার নিজেই আদালতের নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পুনরায় ড্রামের চিমনি বসিয়ে ভাটা চালানো আদালত অবমাননা কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আদালত অবমাননা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ভাটা চালিয়ে ইট পোড়াবো।”তিনি আরও স্বীকার করেন, নতুন করে চিমনি স্থাপন কিংবা ভাটা চালুর জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন— প্রশাসন চিমনি ভেঙে দিয়ে চলে যাওয়ার পর যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই ভাটা পুনরায় চালু হয়ে যায়, তাহলে অভিযানের কার্যকারিতা কোথায়? আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে অবৈধ কার্যক্রম চালানোর পেছনে কারা সাহস জোগাচ্ছে—সেটিই এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button