বাসা বাড়িতে ময়লার টাকার জন্য গেলেই ব্যবস্থা চসিক মেয়র

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম নগরীতে বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেসরকারি ভেন্ডার নির্ভরতা পুরোপুরি বন্ধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। নগরবাসীকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশক্রমে মার্চ মাস থেকে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চসিক কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে চসিকের নিজস্ব পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরাই সরাসরি নগরীর বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।চসিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য কোনো ভেন্ডর, দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে আলাদা করে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এখনো নিজেদের ভেন্ডর পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ কিংবা পরিচ্ছন্নতা সেবাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভেন্ডর পরিচয়ে টাকা দাবি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
নগরবাসী সচেতন না হলে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই কেউ যদি জোরপূর্বক টাকা আদায় কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা (০১৮১১-৮০৩৬৬৬) এবং মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)-এর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে চসিক কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আরও জানিয়েছে, “ক্লিন, গ্রীন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি” গড়ার লক্ষ্যে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগরবাসীকেও যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে চসিক।অনুরোধক্রমে,মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনসচিবচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন



