১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই অবৈধ ইটভাটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

মোশারফ হোসেন মিজান: কুমিল্লার দেবীদ্বারে উচ্চ আদালতের কাগজপত্র দেখিয়েও রক্ষা পেল না দুটি অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ‘এমবিসি’ ও ‘একতা’ ব্রিক্স ফিল্ড নামের দুই প্রতিষ্ঠানকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল ও দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাসের নেতৃত্বে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ডের ‘এমবিসি’ ব্রিক্সফিল্ডে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইটভাটাটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে মালিক মো. সবুর ভূঁইয়াকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে বেলা সোয়া ১টায় পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় ৩ নং রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকারের ‘একতা ব্রিক্স ফিল্ড’-এ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানেও অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয় এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মালিকপক্ষের ক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন
অভিযান চলাকালে ‘এমবিসি’ ব্রিক্সফিল্ডের মালিক সবুর ভূঁইয়া ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই সংবাদ সম্মেলন করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“আমি পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছি এবং মামলাটি এখনো চলমান। প্রায় ৪৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আজ রাজনৈতিক প্রভাবে আমাকে পথে বসানো হয়েছে। এতে আমার প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হলো।”
অন্যদিকে, একতা ব্রিক্সের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, তারা সম্প্রতি ভাটাটি ক্রয় করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজের জন্য আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে ভাটা ভেঙে ফেলায় তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস জানান:
“আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ব্যক্তি বিবেচনায় অভিযান পরিচালনা করছি না। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর ১৫(১) ধারায় ২ টি ইটভাটার চিমনি ও কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে এবং মোট ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন জানান, উপজেলার ২৪টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টিরই কোনো বৈধতা বা পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তিনি বলেন, “আজকের দুটিসহ মোট ৭টি অবৈধ ভাটা ধ্বংস করা হলো। বাকি ৮টি অবৈধ ইটভাটা পর্যায়ক্রমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”
নিরাপত্তা ও জনবল
অভিযান চলাকালে দেবীদ্বার থানার এসআই আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী, মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং কুমিল্লা র্যাব-১১-এর ডিএডি মো. মনসুর আহমেদের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ইটভাটাগুলোর কারণে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।



