আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

সাতকানিয়ায় পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, ৫ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও যৌন পীড়নের শিকার হয়েছে দুই কিশোরী। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ১৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই কিশোরী (১৬ ও ১৫ বছর বয়সী) সাধুরনালস্থ পাহাড়ি প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে ওতপেতে থাকা সাতজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে পাশের পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে এবং অপর কিশোরীকে (১৫) শ্লীলতাহানি ও যৌন পীড়ন করে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশ পরিদর্শকসহ (তদন্ত) পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযানে নামে। ভুক্তভোগী কিশোরীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মাথায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ছদাহা ইউনিয়নের সন্দিপ্যা পাড়ার শাহ আলমের ছেলে মো. রাকিব (২০), নাসিরের ছেলে মো. মানিক ইসলাম (২০), আব্দুল মজিদের ছেলে আবদুর রহিম (১৯) এবং উত্তর পাহাড় এলাকার ওসমান গণির ছেলে মো. সৈয়দ (১৬)।

সাতকানিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১০, তারিখ: ১৪ মে ২০২৬)। মামলার বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনি পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুদীপ্ত রেজা জয়ন্তকে। দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করায় এলাকায় পুলিশের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে। তবে পলাতক আসামিদের নিয়ে জনমনে এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button