সুখের আশায় বুক বেঁধে প্রতারণার শিকার নারী, প্রেমিকার ফোন আত্মীয়কে দিলেন পুলিশ!

মাহবুব আলম মানিক: দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করে তা নিজের শশুরবাড়ির এক নিকট আত্মীয়কে উপহার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের এক কনেস্টেবলের বিরুদ্ধে।
শিল্প পুলিশের ওই কনস্টেবলের নাম তাহমিদ খাঁন অন্তু তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকায়। তিনি বর্তমান গাজীপুর শিল্প পুলিশে নিযুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি ঢাকা জেলার আশুলিয়ার শ্রীপুর শিল্প পুলিশ ১-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তাকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে বদলি করা হয় বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়।
এ ঘটনায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পর এখন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী প্রায়ই দুই বছর আগে আশুলিয়ায় অবস্থিত ঢাকা ইপিজেড এলাকায় সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ এর মাধ্যমে পরিচয় হয় তাদের। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। কিন্তু সম্পর্কের শুরুতে অভিযুক্ত কনেস্টবল অন্তু তার পূর্বের বিয়ে এবং স্ত্রীর কথা গোপন রেখে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের আশ্বাস, ভবিষ্যৎ সংসারের নানা স্বপ্ন এবং আবেগঘন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তার আস্থা অর্জন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় আর্থিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ টাকা নেন।পরবর্তীতে ওই নারী, পুলিশ কনেস্টবলের প্রতারণার বিষয়ে কিছুটা বুঝতে পারলে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত কনেস্টবল আলিফ নামে তার এক সহকর্মীর বাসায় ভুক্তভোগীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে লাঞ্ছিত করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন এবং কি ভুক্তভোগী নারীর ব্যবহৃত দামী মোবাইল ফোন ও দশ হাজার টাকা টাকা ছিনিয়ে নেন। ঘটনার কয়েকদিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে মোবাইল ও টাকা ফেরত দিতে রাজি হন ভুক্তভোগীকে। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও এখনো পযন্ত ফোন ও টাকা ফেরত দেননি তিনি।
অন্যদিকে খোঁজ খবর নিয়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোনটি অভিযুক্ত তার শশুরবাড়ির এক আত্মীয়কে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, শুধু অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন যাকে বিশ্বাস করে নিজের সবকিছু দিয়েছিলাম, সেই মানুষটিই আমার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এমন আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো অভিযুক্ত নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পুলিশ সদর দপ্তর, সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কনেস্টেবলের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে, তিনি মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও দশ হাজার টাকা নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং তিনি মোবাইল ফোনটি কোন এক আত্মীয়কে উপহার দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



