চট্টগ্রাম বিভাগ

ভোল পাল্টে যুবলীগ নেতাই এখন ‘জিয়া সাইবার ফোর্স’র শীর্ষ পদে!

বিশেষ প্রতিনিধি: কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডেভিল  যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া এখন জিয়া ফোর্স নেতা। যুবলীগের  সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকা জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পেরুল গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এম. এ. মোতালেব স্বাক্ষরিত পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের অনুমোদিত কমিটিতে ৪৯ নম্বরে তার নাম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত “জিয়া সাইবার ফোর্স” এর লালমাই উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এছাড়া তিনি “লালমাই প্রতিদিন” নামে একটি অনুমোদনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করছেন এবং নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

আরও অভিযোগ উঠেছে, তিনি অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনে সক্রিয় ভূমিকায় আসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টিকে “রাজনৈতিক অবস্থান বদলের নতুন উদাহরণ” হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জসিম উদ্দিন ভুঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমাই উপজেলা বিএনপি”র সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, “জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া যুবলীগের কোন পদে ছিলো, সেটি আমার জানা নেই। জিয়া সাইবার ফোর্সের কমিটি কে দিয়েছে এবং তাকে কিভাবে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে, সে বিষয়েও আমি অবগত নই। বিষয়টি আমরা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।”

উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এব্যাপারে জিয়া সাইবার ফোর্স কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তদন্ত চলমান রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button