সিএমপির অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ডিবি (উত্তর) বিভাগের অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়। রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে কর্ণফুলী থানাধীন কলেজ বাজার ভাই ভাই মার্কেট এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগের টিম-৩১।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম কর্ণফুলী থানার কলেজ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের অংশ হিসেবে মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। দুপুর আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-১০৫১ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে চালক মোঃ আব্দুল আলীম (৩৭) কে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটির ব্যাকডালা খুলে একটি লাগেজের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পাঁচটি খাকি কাগজের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো খুলে মোট ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন পাঁচ কেজি। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলীম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডিবি পুলিশকে জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দকৃত গাড়ির প্রকৃত মালিক আরও একটি প্রাইভেটকারে করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির আভিযানিক দল একই স্থানে পুনরায় অবস্থান নিয়ে নজরদারি বৃদ্ধি করে।
পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-৩৫৮২ নম্বরের আরও একটি প্রাইভেটকার চেকপোস্টে আটক করা হয়। এসময় গাড়ির পিছনের সিটে থাকা মোঃ মিজানুর রহমান মিরাজ (৪০) এবং চালকের আসনে থাকা মোঃ ইলিয়াছ (৩৭) কে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমান মিরাজের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন। অপরদিকে মোঃ ইলিয়াছ বরিশালের গৌরনদীর বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় থাকতেন। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সেই চক্রের সদস্য কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল এবং এর পেছনে আরও কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।



