পুকুর ভরাট করে সিডিএ’র নকশা অনুমোদন: হুমকির মুখে চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মূল দলিলে পুকুর থাকার শর্ত উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনের নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুকুর বা জলাশয় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভূমির মূল দলিলে পুকুর থাকলে তা কোনোভাবেই ভরাট না করার শর্তে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিডিএ’র কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের সময় পুকুরকে কৌশলে ‘খালি জমি’ বা ‘ভিটা’ হিসেবে দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিডিএ কর্মকর্তা আবু ঈসা আনসারী। সচেতন মহলের দাবি, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ব্যবহার করে ক্ষমতার জোরে তিনি এসব নিয়মবহির্ভূত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এসব নকশা অনুমোদনের ফলে নগরে পুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর। এসকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা আবু ঈসা আনসারীর দপ্তরে এবং তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
পরিবেশবিদদের মতে, চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতা সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক জলাশয় ধ্বংস করা। যদি পুকুর সংরক্ষণে কঠোরতা নিশ্চিত করা না হয় এবং অসাধু কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে নগরবাসী আরও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে সিডিএ’র নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জলাধার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।



