বোয়ালমারীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মহাব্বত মুন্সি (উপজেলা প্রতিনিধি): ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ধাওয়া করে অভিযুক্ত ফয়জুল্লাহ (৩৯) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গত শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ফয়জুল্লাহ চন্দনী গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে তিনি প্রতিবেশী ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে কিশোরীকে একা পেয়ে তিনি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিশোরীর আর্তচিৎকার শুনে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর এক স্বজন অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, “মেয়েটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যে অপরাধ করা হয়েছে, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার বর্ণনায় ওই কিশোরীর চাচি বলেন, “চিৎকার শুনে আমি ঘরে গিয়ে দেখি মেয়েটি ভয়ে কাঁপছে এবং কান্নাকাটি করছে। সমাজে যদি এই ধরণের ঘৃণিত অপরাধের বিচার না হয়, তবে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
তবে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত ফয়জুল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় ওই কিশোরীর চাচি বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা আসামিকে গ্রেফতার করেছি এবং তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
বর্তমানে ওই এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



