দেশ

মাজারের কুমির কেন্দ্রিক শিরক ও প্রতারণা বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে পুনরায় কুমির ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন মাজারের প্রধান খাদেম। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করে বলেন, কুমির এই মাজারের ৬০০ বছরের ঐতিহ্যের অংশ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই দাবির নেপথ্যে ‘মানত বাণিজ্য’ এবং সাধারণ মানুষকে ‘শিরক’-এ লিপ্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন সচেতন সমাজ ও ওলামায়ে কেরাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাজারের দিঘিতে কুমির থাকার সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিভ্রান্ত করে আসছে। কুমিরের নামে মানত করা, কুমিরের মুখে খাবার তুলে দিয়ে পুণ্য অর্জনের চেষ্টা করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট ‘শিরক’ ও হারাম। আলেমদের মতে, মানত কেবল মহান আল্লাহর নামেই হতে পারে; কোনো ব্যক্তি, মাজার, পীর কিংবা প্রাণীর নামে মানত করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

অভিযোগ রয়েছে, মাজারের দিঘিতে কুমির থাকলে একদল খাদেম ও অসাধু ব্যক্তি ব্যবসায়িক ফায়দা লুটে থাকে। তারা সহজ-সরল ও অশিক্ষিত মানুষকে কুমিরের অলৌকিক ক্ষমতার ধোঁকায় ফেলে হাঁস, মুরগি, ছাগল ও গরু মানত করতে উৎসাহিত করে। পরে এসব গবাদিপশু হাতিয়ে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ, ঐতিহ্যের দোহাই দেওয়া হলেও এর মূল লক্ষ্য মূলত একটি বড় ধরণের সিন্ডিকেট পরিচালনা করা।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মাজারের দিঘির আদি ও বিখ্যাত কুমির ‘ধলা পাহাড়’ এবং ‘কালা পাহাড়’ বহু বছর আগেই মারা গিয়েছে। বর্তমানে যে কুমিরগুলো দিঘিতে রাখার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মূলত পর্যটক টানার এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার কৌশল মাত্র।

সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিকভাবে যদি পুনরায় দিঘিতে কুমির ছাড়া হয়, তবে তা পরোক্ষভাবে এই ভণ্ডামি ও প্রতারণাকেই প্রশ্রয় দেবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যায় পড়ে ঈমানি সংকটের সম্মুখীন হবে। তাই ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা এবং প্রতারকদের স্বার্থ হাসিল রুখতে প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে থাকা। খাদেমদের এই অযৌক্তিক ও ব্যবসায়িক হীন স্বার্থের কাছে জাতি যেন হেরে না যায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও এই ধরণের ধর্মীয় জালিয়াতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দ্রষ্টব্য: এই সংবাদ প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button