৩ বছরের কন্যাসন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় মা মারুফা

মোঃ ইকবাল হোসেন (সোহেল): যৌতুকের টাকা না পেয়ে নিজের তিন বছরের অবুঝ কন্যাসন্তানকে কৌশলে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে পাষণ্ড বাবা। নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া এলাকার অসহায় নারী মারুফা। এদিকে বিজ্ঞ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও অভিযুক্ত স্বামী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মারুফা পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ শরিফের মেয়ে। তাঁর স্বামী মোঃ নাসির বরগুনা জেলার আমতলী থানার কালিবাড়ী গ্রামের আব্দুল আজিজ প্যাদার ছেলে।
মারুফা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী মোঃ নাসির একজন অর্থলোভী হিসেবে আবির্ভূত হন। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি নিয়মিত টাকার দাবি করতেন। স্বামীর আবদার মেটাতে একবার ঋণ করে ৪৫ হাজার টাকা দিলেও নাসিরের চাহিদা কমেনি। বরং তিনি মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতে মারুফার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে মারুফা গত কিছুদিন আগে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে একটি যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর-৪৩/২৬)।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত কয়েকদিন আগে মারুফা যখন বাড়িতে ছিলেন না, তখন মোঃ নাসির দোকানে কিছু কিনে দেওয়ার ছলে মরিচবুনিয়া এলাকায় মারুফার মায়ের বাড়ি থেকে তাদের ৩ বছরের কন্যা শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে মারুফা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে সন্তান উদ্ধারের জন্য তিনি বিজ্ঞ আদালতে ১০০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: এমপি-২৪/২৬)।
মারুফা অশ্রুসিক্ত চোখে আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের টাকা-পয়সা নেই। এলাকার প্রভাবশালী মানুষদের কাছে গিয়েও আমি কোনো বিচার পাইনি। আমি জানি না আমার বুক খালি করা ছোট্ট মেয়েটি কোথায় আছে, কেমন আছে। ওর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমি চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছি।”
অভিযোগ রয়েছে, মোঃ নাসির বর্তমানে পলাতক থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মারুফাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন। অথচ নাসিরের নামে পটুয়াখালী আদালতে ইতোমধ্যে দুটি মামলা রয়েছে এবং একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মারুফা তাঁর শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে এবং পাষণ্ড স্বামীর হাত থেকে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পটুয়াখালী সদর ও বরগুনার আমতলী থানা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতাই কেবল এই অসহায় মায়ের কোল পূর্ণ করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।



