আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

সন্দ্বীপে ২০ মামলার আসামি ‘ছেনী বাবলু’সহ গ্রেপ্তার ২১৩, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক

জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ১৩ অস্ত্র, ২ লাখ ৪৫ হাজার ইয়াবা; গ্রেপ্তার ২১৩

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম জেলায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে জেলা পুলিশ। সন্দ্বীপে পৃথক এক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবলুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র। একই সঙ্গে জেলা জুড়ে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা ও ৯২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে মোট ২১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম গত ৭ মে ২০২৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনায় জেলার ১৭টি থানায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপ থানার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবলু (৩৫) এবং মো. জুয়েল রানাকে (৩৬)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাহের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টি দেশীয় এলজি, ৪টি কার্তুজ, একটি ছেনি, একটি চাপাতি, ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেনী বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তার নামে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩টি অস্ত্র উদ্ধার, ৯টি মামলা রুজু এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা, ৯২ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৯৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত ৫টি মামলায় ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button