চট্টগ্রামপরিবেশ

১৫ বছরের পরিত্যক্ত জাম্বুরী মাঠে প্রাণের ছোঁয়া, আধুনিক ক্রীড়া ও বিনোদন কেন্দ্রে রূপ নিচ্ছে আগ্রাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও খেলার অনুপযোগী অবস্থায় থাকার পর নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাঠটির ব্যাপক আধুনিকায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং তা নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
রবিবার মাঠটির উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। মাঠের বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে মাঠটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়েও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত ডোবায় পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মাঠটিকে পুনরুদ্ধার ও খেলার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর মাঠটিকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক উন্মুক্ত স্থানে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাঠটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক ওয়াকওয়ে, যেখানে সকাল ও বিকেলে হাঁটতে পারবেন নগরবাসী। মাঠের কেন্দ্রস্থলে রাখা হয়েছে ফুটবল খেলার জন্য উপযোগী বিশাল খেলার মাঠ। পাশাপাশি নির্মিত হচ্ছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, যা তরুণদের ক্রীড়া চর্চায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেট, পোশাক পরিবর্তনের জন্য চেঞ্জিং রুম এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে উন্নত আলোকায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক সবুজায়ন, ল্যান্ডস্কেপিং এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে এটি কেবল একটি খেলার মাঠ হিসেবেই নয়, বরং নগরবাসীর স্বাস্থ্যচর্চা, বিনোদন এবং সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত সবুজ স্থান এবং আধুনিক খেলার মাঠ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক খেলার মাঠ একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একসময়ের পরিত্যক্ত ডোবায় পরিণত হওয়া আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠটিতে মাটি ভরাট করে সারা বছর খেলার উপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।”

মেয়র জানান, আগ্রাবাদ যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, তাই কর্মজীবী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন ব্যায়াম ও বিনোদনের কথা বিবেচনায় রেখেই ওয়াকওয়ে, ফুটবল মাঠ ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত বসার স্থান, আধুনিক টয়লেট, চেঞ্জিং রুম, আলোকায়ন, সবুজায়ন এবং সীমানা সুরক্ষার মাধ্যমে মাঠটিকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, উদ্বোধনের পর আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ চট্টগ্রামবাসীর অন্যতম জনপ্রিয় উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে এটি নগরীর ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং সুস্থ জীবনযাপন ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান, আনোয়ার জাহান, এ টি এম সেলিম রেজাসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button