চবি সায়েন্টিফিক সোসাইটির নতুন কমিটির বরণ ও বিদায়ী কমিটির সম্মাননা প্রদান

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি (সিইউএসএস)-এর নতুন কমিটিকে বরণ এবং বিদায়ী কমিটিকে সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে “Passing the Torch: Welcoming the New and Honoring the Legacy” শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংগঠনের সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সভাপতি ও সিইউএসএস-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা আঁখি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চাই একটি জাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক মনন বিকাশে সিইউএসএসের মতো সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ আমাকে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত করে। এই সংগঠনের কার্যক্রমে আমি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন দেখতে পাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণামুখী পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের সংগঠনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা গবেষণা, বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও কাজ করছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সফলতা কামনা করেন এবং বিদায়ী কমিটির সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার বিকাশ অপরিহার্য। তিনি বলেন, “জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। সিইউএসএস-এর সদস্যদের বিভিন্ন গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবধর্মী জ্ঞান অর্জনের যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, দলগত কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে এ ধরনের সংগঠনের কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় ইতিবাচক ও সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা আঁখি বলেন, বিজ্ঞানচর্চা শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চিন্তাধারা, যা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত গবেষণা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সফলতা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের স্মৃতিচারণ করেন। একইসঙ্গে নতুন নেতৃত্বকে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরাও সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সিইউএসএস-এর বর্তমান সভাপতি প্রতীক দত্ত সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের অগ্রযাত্রায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা, গবেষণা প্রকল্প, অলিম্পিয়াড এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সঙ্গীত, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়া ইয়াসমিন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাইসারা জাহান ও সীমা পালিত।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিদায়ী কমিটির সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথি ও সদস্যরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।



