অপরাধদুর্নীতিদেশ

জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতাল দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ও ‘র’ এর ছত্রছায়ার নিয়ন্ত্রণে

‎আবু সায়েম মোহাম্মদ সা-আদাত উল করীম: জামালপুরের অন্যতম জনকল্যাণমুখী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি এখন একজন ব্যক্তির পকেট সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে গঠনতন্ত্র জালিয়াতি, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন, কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মসহ সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে বাণিজ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তরিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত ২০ বছরের অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সমিতির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারী, কর্মকতা ও কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ
এ সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেন। হাসপাতালে কর্মকর্তা নিয়োগ, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। সাধারণ সম্পাদককে নেপথ্যে ও সরাসরি তাঁর সকল নৈতিক ও অনৈতিক কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছেন সমিতির অন্যতম সদস্য প্রার্থ প্রতিম নন্দী (পথিক নন্দী)। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে অনেকেই বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে একাধিক নারী কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করেছেন। তাঁদের সাথে রয়েছে তাঁর সুগভীর সম্পর্ক। সেই সম্পর্কে তিনি নিয়েছেন হাসপাতালে এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ও তিনিসহ আরও কয়েজন মিলে অতীত সরকারের সাবেক এমপি, মন্ত্রীসহ, মেয়র, চেয়ারম্যানসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্হানীয় (৫ আগস্টের পর) পলাতক নেতা ও হাসপাতালের পরিচালক কমিটির সদস্য যারা দেশে কিম্বা ভারতসহ বিভিন্নদেশে পলাতক রয়েছেন, সেই নেতাদের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তাছাড়া সম্প্রতি সময়ে পলাতক নেতারা ভারতে বসে থেকেই এদেশে অবস্থানরত ভারতীয় দালাল ও কিছু নাগরিকদের মাধ্যমেও পর্দার নেপথ্যে এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ভারতে অবস্হানরত বেশ কয়েকজন নেতাকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া দেশের বিভিন্ন রোগীদের মাধ্যমে তাঁরা নিয়মিত বৈধ ও অবৈধ উপায়ে নেতাদের কাছে মাসোহার পাঠাচ্ছেন এমন অভিযোগও শোনা যায়। তাঁরা আরও বলেন অতীতে বিভিন্ন সময় এরা আওয়ামী লীগের সরকারের সমর্থক থাকায় নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে এখন নানা উপায়ে তাদেরকে সুবিধা দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন বলে এমনি মতামত জানিয়েছেন। তাঁরা আরও জানান স্টাফদের মধ্য থেকে অনেকে সিরিয়াস ও জটিল রোগী এবং তাদের স্বজনদেরকে দেশের বাহিরে বিশেষ করে ভারতের কোলকাতার এপোলো, আমরি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে সুকৌশলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই চক্রের মাধ্যমে ভারতের সেই হাসপাতাল গুলোতে রোগীরা চিকিৎসা নিলেই তাঁরা পান মোটা অংকের কমিশন। আর এই কমিশনের ও নানাবিধ প্রণোদনার মাধ্যমে গড়ে উঠছে আন্তঃজেলায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর মদদে নিয়োজিত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের নিরব এক স্বাস্হ্য সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয় এর সাথে জড়িয়ে পরেছেন কিছু স্বাস্হ্য সহকারী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং রিপ্রেজেনটেটিভসহ হাসপাতালে রোগী প্রমোশন বা রোগী ভিরানোর মার্কেটিং কর্মকতা। আবার অনেকেই মনে করে এই নিয়ন্ত্রণ চক্রটাই স্বাস্হ্য খাতে নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির সাথে এমন ভাবে জড়িত,যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাহিরে। এছাড়া তাঁরা আরও বলেন এমনকি প্রতিষ্ঠানের একাধিক নারী কর্মকর্তা ও নার্সের সাথেও রয়েছে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ও নিবির সম্পর্ক। এই সুবাদে প্রতিষ্ঠানে ঐ সকল স্টাফরাও হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।
জানা যায় এক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রজীবন শেষে সমিতির সাধারণ সম্পাদক তিনি নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ঠিকাদারীকে। পরে ঠিকাদারী পেশার পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠেন একজন রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক সফলতার সুবাদে তিনি সুযোগ পেয়ে যান তৎকালিন সময়ে মানব সেবার প্রত্যয়ে গড়ে উঠা জামালপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে সদস্য হওয়ার। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পান। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ডায়াবেটিক সমিতি কর্তৃক সংশোধিত এবং সমাজ সেবা অধিদপ্তর অনুমোদিত ও রেজিষ্ট্রিকৃত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহাল থাকেন। বিগত দিনের হিসাব বাদ দিলেও ২০০৭ সালের পর থেকে অদ্যাবদি (প্রায় বিশ বছর) তিনি উক্ত পদে অধিষ্ট আছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে গড়ে তোলেন একচ্ছত্র আধিপত্য। সমিতির প্রতিষ্ঠা কাল ১৯৯২ সালে
‎অনুমোদিত মূল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, হাসপাতালের কমিটির মেয়াদ ২ বছর থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে বাড়িয়ে ৩ বছর করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাধারণ সম্পাদক গত কয়েক বছরে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছেন। সর্বশেষ নিজের ইচ্ছামতো একটি পকেট গঠনতন্ত্র তৈরি করে নেন এমনই অভিযোগ জেরালো হয়ে উঠে।
‎মূল গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—কোনো ব্যক্তি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে পরপর দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। এদিকে জামালপুর জেলা সমাজ সেবা অফিস কতৃপক্ষ জানান ১৯৯২ সালের সরকারি ভাবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠাকালীন গঠনতন্ত্র ছাড়া বারবার সংশোধনকৃত কোন গঠনতন্ত্র সরকারিভাবে জমা বা অনুমোদনকৃত আর কোন গঠনতন্ত্র নেই বা তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। এছাড়া আরও জানা যায় ‎‎সরকারি অনুদান ও ফ্রি চিকিৎসার নামে প্রতারণা
‎জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয়কৃত অর্থের ২০% দেয়ার কথা হাসপাতালের ( জামালপুর ডায়াবেটিক সমিতি), বাকী ৮০% ব্যয় বহন করবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর , কিন্তু প্রায় একযুগ হতে চলল এখন পযর্ন্ত সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এই অর্থ পরিশোধের জটিলতার কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানেও চলমান।
চুক্তিতে আরো উল্লেখ ছিল হাসপাতালে আগত ২৫% থেকে ৩০% রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি) চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কোনো রোগীকে ফ্রি দেখা তো হয়ই না, উল্টো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও গুণতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ডায়াবেটিক রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হলেও এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ বাণিজ্যিক ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সমপরিমাণ, অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। ফলে গরীব ও মধ্যবিত্ত রোগীরা এখানে এসে চরম প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত খাত থেকে অনুদান হিসেবে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও চিকিৎসা সামগ্রীর কোনো সঠিক হিসাব বা যথার্থ ব্যবহার নেই। জামালপুর জেলা পরিষদ জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে বিগত সরকারের সময় আগত রোগীদের জন্য একটি আইসিইউ তৈরীর লক্ষ্যে ৬০(ষাট) লক্ষ টাকা অনুদান প্রদাণ করলেও সাধারণ সম্পাদকের ইচ্ছার অভাবে এখনও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইসিইউ বিভাগটি, প্রাপ্ত এই অনুদানের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে তাঁর বিরুদ্ধে নানা বিধ অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কখনোই সঠিক নিয়মে ও আইনানুগ বা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে গ্রহণযোগ্য কোন অডিট হয়নি এমন অভিযোগও দীর্ঘ দিনের। আয়-ব্যয়ের হিসেবেও রয়েছে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সফটওয়্যার এর পাশাপাশি একটি রেজিস্ট্রি খাতায় লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এই হাসপাতালে তা করা হয় না। সফটওয়্যারে পরিবর্তন করলে সহজে তা বোঝা যায় না কিন্তু রেজিষ্ট্রি খাতায় পরিবর্তন করতে হলে কাটাছেড়াঁ করতে হয় যা স্পষ্ট প্রতীয়মাণ হয়। তাই হাসপাতালের অর্থনৈতিক দূর্নীতি ধামা চাপা দিতে সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র সফটওয়্যারেই হিসাব সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। আয়-ব্যয় লিপিবদ্ধ করার জন্য নেই লেজার বা রেজিষ্ট্রি খাতা । এছাড়া প্রতিদিন নতুন রোগিদের জন্য প্রেসক্রিপশন বই বিক্রির হিসাব রেজিস্ট্রার খাতায় উল্লেখ থাকলেও সেই বই গুলো আবার সফটওয়্যার হিসাবে ফেরত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
সরকার অনুমোদিত বা নিবন্ধিত অডিট ফার্ম দ্বারা প্রতি বৎসর অডিট করার নিয়ম থাকলেও জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক এবং হাসপাতালের হিসাবরক্ষক তাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নিজস্ব একজন ব্যক্তিকে দিয়ে নামমাত্র একটি ‘লোক দেখানো’ অডিট করিয়ে নেন। এর মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও লোপাট ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।
‎‎হাসপাতালের পরিচালকের ‘কনসালটেন্ট’জালিয়াতি ও বৈকালিক চেম্বার ব্যবসা
‎হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক নিজেকে ‘হেমাটোলজি কনসালটেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নির্দিষ্ট উচ্চতর ডিগ্রি (যেমন: MD, FCPS ইত্যাদি) ছাড়া কেউ নামের পাশে ‘কনসালটেন্ট’ লিখতে পারেন না। তার এই ডিগ্রির বৈধতা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। ‎‎এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হয়েও তিনি একই প্রতিষ্ঠানে বসে মোটা অঙ্কের ভিজিট বা পরামর্শ ফির বিনিময়ে বৈকালিক চেম্বার করছেন, যা সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও চিকিৎসা নীতি পরিপন্থী।

এই সকল বিষয়সহ হাসপাতালের সার্বিক বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, জেলা স্বাস্হ্য প্রশাসনের কাছে কেউ অভিযোগ করলে সকল বিষয় তদন্ত করে আইনানুগ ভাবে সকল প্রকৃয়া গ্রহণ করা হবে। এখানে উল্লেখ্য সিভিল সার্জনের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা পর তিনি গত ১১ জুন তারিখে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের পরিচালক বরাবর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সকল চিকিৎসকগণে সকল শিক্ষা সনদ ও বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন নবায়নকৃত সনদ ও চিকিৎসকদের নামের তালিকা প্রেরণের জন্য চিঠি ইস্যু করেছেন।

সূত্রটি আরও জানায়
স্টোর ও হিসাব বিভাগেও রয়েছে চরম ‘দুর্নীতি’।
হাসপাতালের প্রতিটি বিষয় সুচারু ভাবে সম্পন্ন করতে কার্যকারী কমিটির অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক কমিটির কারো মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল খুশি মত তৈরী করেন বিভিন্ন উপ-কমিটি। আর সেই সব উপ-কমিটিতে রাখা হয় তাঁর নিজেস্ব বা পকেট কমিটি। হাসপাতালের কেনাকাটা বা স্টোর সেকশনে চলছে সর্বত্রই লুটপাট । বাজার থেকে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো পাকা রসিদ (Voucher) রাখা হয় না। অথবা কোন রসিদ নিয়ে তদন্ত করলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্বণ কপিও খোঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের সাদা ভাউচারে তাঁরা নিজেরাই নাকি ইচ্ছানুযায়ী হিসাবের অংক লিখে রাখেন। অর্থাৎ কম টাকায় পণ্য কিনে ভাউচারে বেশি দেখানো এটি এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কাজ। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে কোন কিছু ক্রয় করতে হলে নিতে হয় বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন বা দরপত্র, মানা হয়না সে নিয়ম। অধিকাংশ কেনাকাটার বিপরীতে কোনো পাকা ক্রয় রসিদ (Cash Memo/Invoice) নেই। সাদা কাগজে ভুয়া হিসাব লিখে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে স্টোর কিপার, হিসাবরক্ষকসহ সাধারণ সম্পাদকের এ সিন্ডিকেট।

তাঁরা আরও বলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর মানসিক নির্যাতন ও বৈষম্যে
হাসপাতালটিতে চলছে ‘দাস প্রথা’র আধুনিক রূপ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে চরম বৈষম্য। যোগ্যতা নয়, বরং সাধারণ সম্পাদকের ‘তোষামদকারী’ হওয়াই এখানে টিকে থাকার একমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি।
সাধারণ সম্পাদকের সাথে ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক এমনকি তার কথামত চললে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আকাশচুম্বী হয়। বিপরীতে, যারা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন, তারা প্রতিনিয়ত অপমান, ভৎসনা এবং চাকরিচ্যুতির হুমকির শিকার হচ্ছেন।

তবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কতিপয় ব্যক্তিরা ঈর্ষাম্বিত হয়ে ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ না পেয়েই তাঁদের বিরুদ্ধে অপপচারসহ আজে বাজে কথা বলছে।
সমিতির সদস্য প্রার্থ প্রতিম নন্দী (পথিক নন্দী) বলেন, তিনি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, আর এই প্রতিবাদের কারণেই সুবিধা ভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করছেন, তিনি আরও বলেন তিনি কোন নিয়োগ কমিটি বা ক্রয় কমিটিরও সদস্য না, তিনি ব্যক্তিগত কোন প্রকার স্বার্থ নিয়ে ডায়াবেটিস সমিতির কোন কাজের সাথেও জড়িত না। যারা তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের বিদ্রুপ মন্তব্য করছেন বরং তাদের কোন খারাপ উদ্দেশ্য ও স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
এদিকে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর মনে করেন এই হাসপাতালটি জামালপুর জেলাবাসীর গর্ব, হাসপাতালটি আগামীতে আরও অধিক সুযোগ সুবিধা যুক্ত হোক এবং হাসপাতাল পরিচালনা বা কমিটি নিয়ে যাতে কোন অচলাবস্থা না হয় বা কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে তাই তাঁর সরকার ও প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button