আইন-শৃঙ্খলাকুমিল্লাহত্যাকান্ড

মুরাদনগরে নিখোঁজের পরদিন অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগরে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মাহবুল (২৮) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকার একটি সড়কের পাশের ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে মো. নাঈম ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মাহবুল উপজেলার গকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং নুরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মাহবুল দুজন যাত্রী নিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা রাতভর ও পরদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মাহবুলের কোনো সন্ধান পাননি। এতে স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।

শনিবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকায় সড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি মাহবুলের বলে শনাক্ত করেন।

এদিকে পুলিশের তৎপরতায় উপজেলার কোদালকাটা-মির্জাপুর এলাকা থেকে নিহত মাহবুলের ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা চুরি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মাহবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. নাঈম ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নাঈমের বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টিলি গ্রামে হলেও তিনি পরিবারের সঙ্গে মুরাদনগরের নগরপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ওসি শফিউল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button