অভিযানরাজধানী

জনদাবির মুখে নিকুঞ্জ-২ এ উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল ডিএনসিসি

মো:জাকিরুল ইসলাম: এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আজ নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১/এ নম্বর সড়কের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ডিএনসিসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ডিএনসি‌সি নিয়মিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিকুঞ্জ-২ এর ১/এ নম্বর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠীর আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সাধারণ পথচারী, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর আগে নিকুঞ্জ এলাকার বিভিন্ন সড়ক, লেক, ফুটপাত ও আবাসিক পরিবেশ দখল এবং অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিক অনুসন্ধানী ও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আবাসিক এলাকার ভেতরে অবৈধ স্থাপনা, দখল, ফুটপাত সংকুচিত হওয়া এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ব্যাঘাতের বিষয় তুলে ধরা হয়।

স্থানীয়দের মতে, আজকের উচ্ছেদ অভিযান শুধু অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিকুঞ্জ-২ এলাকাকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি অব্যাহত থাকলে সড়কটি আবারও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী পরিবেশ ফিরে পাবে।

এলাকাবাসী ডিএনসিসির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জনস্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকলে নিকুঞ্জ-২ একটি আরও সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকায় পরিণত হবে। একই সঙ্গে তারা উচ্ছেদের পর পুনরায় যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সড়ক ও ফুটপাত দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও নিকুঞ্জ-২ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও জনসাধারণের জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়রা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button