দেশ

ফটিকছড়িতে তালের শাঁসের কদর তুঙ্গে: গরমে স্বস্তি খুঁজছে সাধারণ মানুষ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: আকাশ থেকে ঝরছে যেন আগুনের হলকা। তীব্র দাবদাহে ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের জনজীবন। আর এই কাঠফাঁটা গরমে এক চিলতে স্বস্তি ও শীতলতার পরশ পেতে সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমি ফল তালের শাঁস। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাজিরহাট, বিবিরহাট, বারৈয়ারহাট, ভুজপুরের কাজিরহাট, নানুপুর আজাদী বাজার, নারায়ণহাট ও হেয়াকো বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কচি তাল। কেবল স্থায়ী দোকান নয়, অনেক মৌসুমি বিক্রেতা ভ্যানগাড়ি করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেও তালের শাঁস বিক্রি করছেন। তবে চাহিদার তুঙ্গে থাকা এই ফলের দাম এবার বেশ চড়া। প্রতিটি তালের শাঁস (আঁটিসহ) বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় ফটিকছড়ির গ্রামগঞ্জে প্রচুর তালগাছ দেখা গেলেও এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। উপজেলায় তালগাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বিক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এই ফল সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে।

তালের শাঁস বিক্রেতা মহসিন মিয়া বলেন, “গরম বাড়ার সাথে সাথে তালের শাঁসের চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে এলাকায় তালগাছ না থাকায় আমাদের অনেক দূর থেকে চড়া দামে এগুলো কিনে আনতে হয়। পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করে আমাদেরও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবুও মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে কিনছে।”

ক্রেতা মো. হানিফ আক্ষেপ করে বলেন, “একটা সময় ছিল যখন মাত্র ২ থেকে ৫ টাকায় তালের শাঁস মিলত। তখন মানুষের এতো চাহিদাও ছিল না। এখন তালগাছ কমে গেছে, কিন্তু কদর বেড়েছে। তাই দাম বেশি হলেও শরীরের সজীবতার জন্য এটি কিনতেই হচ্ছে।”

পুষ্টিবিদদের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণ জলীয় অংশ থাকে যা শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করে। এছাড়া এতে থাকা খনিজ উপাদান ও ভিটামিন গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই দাম কিছুটা বেশি হলেও মৌসুমি এই সুস্বাদু ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে না। ফটিকছড়ির প্রতিটি বাজার এখন তালের শাঁসের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button