ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

চরম সংকটে মুসা (আ.)-এর সেই বিশেষ দোয়া: অসম্ভবকে সম্ভব করার ঐশী পাথেয়

ধর্ম ডেস্ক: মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন চারদিকের সব দরজা বন্ধ মনে হয়, কোনো আশার আলো দেখা যায় না। ঘোর অমানিশার সেই সন্ধিক্ষণে মুমিন হৃদয়ে প্রশান্তি ফেরাতে পারে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নবীগণের বিশেষ কিছু প্রার্থনা বা দোয়া। এর মধ্যে হযরত মুসা (আ.)-এর একটি বিশেষ দোয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও অনুকূলে নিয়ে আসতে সক্ষম।

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-কাসাস-এর বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত মুসা (আ.) যখন ফেরাউনের রোষানল থেকে বাঁচতে মিশর ত্যাগ করে মাদইয়ানে পৌঁছান, তখন তিনি ছিলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তাঁর কাছে কোনো অর্থ ছিল না, ছিল না কোনো নিরাপদ আশ্রয় বা আপনজন। এমন এক নিঃস্ব ও ক্লান্ত অবস্থায় একটি গাছের ছায়ায় বসে তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বিনীতভাবে এই আরজি পেশ করেছিলেন।

আরবি: رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাক্বীর।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার (চরম) মুখাপেক্ষী।” (সুরা আল-কাসাস: ২৪)

আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই আন্তরিক ও বিনয়পূর্ণ প্রার্থনা কবুল করেছিলেন। এর পরপরই তিনি কেবল নিরাপদ আশ্রয়ই পাননি, বরং একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং পরবর্তীতে একটি আদর্শ পরিবার লাভ করেন।

১. নিরাশ না হওয়া: চারদিকের পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা হারানো চলবে না। কুরআনের ঘোষণা— “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি” (সুরা আশ-শারহ: ৬)।
২. অসহায়ত্ব স্বীকার করা: নিজের সীমাবদ্ধতা ও অভাব সরাসরি আল্লাহর সামনে তুলে ধরা একটি বড় ইবাদত। মুসা (আ.) নিজেকে ‘ফাক্বীর’ বা মুখাপেক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে আল্লাহর দয়া আকর্ষণ করেছিলেন।
৩. অপ্রত্যাশিত সাহায্য: মানুষ যখন ধারণার অতীত কোনো সংকটে পড়ে, আল্লাহ তখন অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করেন। সুরা তালাকের ২-৩ নম্বর আয়াতে এই গায়বি সাহায্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, জীবন যখন থমকে দাঁড়ায়—তা চাকরি, রিযিক, বিবাহ কিংবা যেকোনো জটিল সমস্যাই হোক না কেন—এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা উচিত। বিশেষ করে ফজরের সালাত শেষে, শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময় কিংবা সিজদাবনত অবস্থায় একাগ্রচিত্তে দোয়াটি পাঠ করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ শরিফ এবং মাঝখানে বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা দোয়া কবুলের পথ প্রশস্ত করে।

মুসা (আ.)-এর এই দোয়াটি মূলত একজন অভাবগ্রস্ত বান্দার সাথে তাঁর মহাপ্রতাপশালী রবের সম্পর্কের এক অনন্য দলিল। এটি আমাদের শেখায় যে, যখন কোনো মাধ্যম কাজ করে না, তখন সরাসরি ‘মালিকের’ কাছে আত্মসমর্পণই হচ্ছে মুক্তির একমাত্র পথ। আজও যদি কোনো মুমিন পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এই দোয়ায় মশগুল হয়, আল্লাহ তাঁর জীবনকেও সম্মান ও স্বস্তিতে ভরিয়ে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button