স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েন ও উত্তরণের পথ
ইসলামিক ডেস্ক: দাম্পত্য জীবন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এক অনন্য নেয়ামত। একটি সুখী ও স্থিতিশীল সংসারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং গভীর দায়িত্ববোধ। তবে বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার স্বাভাবিক ও মধুর সম্পর্কটি অনেক সময় শর্ত, দাবি কিংবা দরকষাকষির বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ছে। যখন অন্তরের টান কেবল আবেগ বা অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ না হয়ে কোনো স্বার্থ বা প্রাপ্তির বিনিময়ে পরিচালিত হয়, তখন সেই সম্পর্কের স্বাভাবিক উষ্ণতা ও প্রশান্তি বিলীন হতে শুরু করে।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা দাম্পত্য সম্পর্কের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন, “তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া” (সূরা আর-রূম: ২১)। এই আয়াতের গূঢ় অর্থ হলো, স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক হবে দয়া ও মমতায় ঘেরা, যেখানে একজন অন্যজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্ক কখনোই কোনো বিশেষ কাজের পুরস্কার বা কোনো ভুলের শাস্তি কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের অবহেলা, মানসিক দূরুত্ব, যথাযথ যোগাযোগের অভাব কিংবা একে অপরকে তুচ্ছ মনে করার প্রবণতা থেকে সম্পর্কের মধ্যে ‘শর্ত’ চলে আসে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনেক বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক ধারণাও এই ধরণের নেতিবাচক প্রবণতাকে উসকে দেয়। এর ফলে দম্পতিদের মধ্যে তৈরি হয় বিশ্বাসের সংকট ও মানসিক বিচ্ছিন্নতা, যা এক সময় সুন্দর একটি সংসারকে কেবলই টানাপোড়েনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।
ইসলাম উভয় পক্ষকেই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরম ধৈর্য ও সহনশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সূরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।” একইভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকারের সমতা নিশ্চিত করে সূরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে, “নারীদের জন্যও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে” (আয়াত: ২১৮)।
পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্লেষকদের মতে, দাম্পত্য সমস্যার সমাধান কখনোই জেদ, চাপ প্রয়োগ কিংবা আবেগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সম্ভব নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন খোলাখুলি আলোচনা, একে অপরের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতা। যেখানে প্রকৃত ভালোবাসা ও গভীর বোঝাপড়া থাকে, সেখানে কোনো দরকষাকষির স্থান নেই।
পরিশেষে বলা যায়, একটি আদর্শ পরিবার গড়ে তুলতে হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। দরকষাকষি বা শর্তারোপ কেবল দূরত্বই বাড়ায়, পক্ষান্তরে দায়িত্বশীল আচরণ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই পারে একটি ঘরকে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় রূপান্তর করতে।



