দেশ

ঝিনাইদহে এফ এন এফ ফার্মাসিটিক্যাল ঔষধ কোম্পানিতে বকেয়া বেতন এবং বদলিজনিত কারণে গেট লক করে দিয়েছে শ্রমিকরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আজ ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঝিনাইদহে এফ এন এফ ফার্মাসিটিক্যাল ঔষধ কোম্পানিতে বকেয়া বেতন এবং বদলিজনিত কারণে শ্রমিকেরা গেট লক করে দিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান করছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা রোডে জোহান পার্ক সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত এফ এন এফ ফার্মাসিটিক্যাল ঔষধ কোম্পানি। কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন তাদের বকেয়া বেতন রয়েছে এক একজন শ্রমিকের এক লক্ষ দেড় লক্ষ টাকা করে। এই বকেয়া বেতন পাওয়ার জন্য যে শ্রমিকেরা কথা বলে তাদেরকেই কোম্পানি বদলি করে দেয়। কোম্পানি ইতিপূর্বে ৬ জনকে বদলি করলে তারা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সম্প্রতিকালে আরো নয় জন শ্রমিককে তাদের গাজীপুরে বদলি করা হয়েছে। এই গাজীপুরে বদলির কারণ সম্পর্কে শ্রমিকদের অভিযোগ হচ্ছে তারা শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে নিয়ে কথা বলার কারণে তাদেরকে সুকৌশলে বদলির মাধ্যমে চাকরিযুক্ত করতে চাচ্ছে। এখানে তারা কাজ করলে যে মজুরি পায় তা দিয়ে কোনরকমে চলতে পারে। সেই মজুরিতে অন্যত্র বদলি করলে সেখানে তাদের কোন কিছুই করা সম্ভব না। তখন তাদের বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হবে। ইতিপূর্বে এরকম ৬ জনকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ‌

উপস্থিত কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হায়দার আলীর সাথে কথা বললে সে বলে যে দীর্ঘদিন ধরে এরা বিভিন্ন কায়দায় শ্রমিক নির্যাতন করে আসছে। এর আগে এদের সাথে বসা হয়েছিল এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বকেয়া বেতন পরিশোধ না করতে পারলেও এখন থেকে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করবে এবং কোন শ্রমিককে অন্যত্র বদলি করা চলবে না। সেই বসা বসি এবং আলোচনা উপেক্ষা করে নতুন করে ৯ জন শ্রমিককে ঢাকার গাজীপুরে বদলি করা হয়েছে যার কারণে এই শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে এফ এন এফ ফার্মাসিটিক্যাল ঔষধ কোম্পানির ম্যানেজার মনজুরুল হক সাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন যে কোম্পানি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সিদ্ধানের ব্যাপারে কোম্পানির সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। করুণা মহামারীর সময়ে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া হয়েছে তারপরেও মালিকের প্রচেষ্টায় তাদের ৭৫% বকেয়া পরিষধের পথে। কিন্তু আলোচনা না করে কোম্পানী বন্ধ করে দেয়া কাজটা ঠিক হচ্ছে না। এই কোম্পানির জন্য এখানে ৩০০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে ৩০০ জনের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাবে। চাকরিবিধিতে বদলির শর্ত আছে। সেই শর্ত ভঙ্গ করে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

এই সময়ে অবস্থানরত শ্রমিকদের মাঝে সামান্য উত্তেজনা দেখা দেয় তাতে কোম্পানি আজকে ছুটি ঘোষণা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button