জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বিষয়ে তাফসির আলোচনা
ইসলামিক ডেস্ক: আল্লাহ বলেন যারা বিশ্বাসী এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাআলা তাদের মর্তবা অনেক উঁচু করে দেন
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বলেন সাধারন মুমিনদের মর্তবা অপেক্ষা জ্ঞানী মুমিনদের মর্তবা ৭শত স্তর বেশি হবে এবং প্রত্যেক দুস্তরের দূরত্ব হবে 500 বছরের সমান।
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে ধর্মের প্রজ্ঞা দান করেন এবং তার অন্তরে সৎপথ ইলহাম করেন।
রাসূলুল্লাহ সা: বলেন জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ পয়গম্বরগণের উত্তরাধিকারী।
এবাদত ও শাহাদতের উপর জ্ঞানীকে শ্রেষ্ঠত্বদান প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেনঃ
فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَى رَجُلٌ منْ أَصْحَابِي .
“জ্ঞানী ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এবাদতকারীর উপর এমনি, যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব সাহাবীদের উপর।”
রসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন:
فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةِ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ .
“আলেম ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এবাদতকারীর উপর তেমনি, যেমন চতুর্দশীর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব তারকারাজির উপর হয়ে থাকে।”
তিনি আরও বলেছেন:
يَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةُ الْأَنْبِيَاءِ ثُمَّ الْعُلَمَاءُ ثُمَّ الشهدا
“কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোক সুপারিশ করবে- পয়গম্বরগণ,অতঃপর জ্ঞানী লোকগণ, অতঃপর শহীদগণ।”
হাদীসে আছে: কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা বান্দাদেরকে উঠাবেন। অতঃপর আলেমদেরকে উঠাবেন এবং তাদেরকে বলবেন: “হে জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ! আমি তোমাদের মধ্যে যে জ্ঞান রেখেছিলাম, তা তোমাদেরকে কিছু জেনেই রেখেছিলাম। আমি তোমাদের মধ্যে আমার জ্ঞান এজন্যে রাখিনি যে, তোমাদেরকে শাস্তি দেব। যাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করলাম।” আল্লাহ্ তা’আলার কাছে আমরাও এমনি আনজাম কামনা করি।
হাদীসসে রয়েছে :
“যেব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথে চালাবেন।”
- ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্যে পাখা বিছিয়ে দেয়।
- একশ’ রাকআত নফল নামায পড়া অপেক্ষা জ্ঞানের কোন অধ্যায় শিক্ষা করা উত্তম।
- জ্ঞানের কোন অধ্যায় শিক্ষা করা মানুষের জন্যে পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম।
- জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।
- জ্ঞান একটি ভাণ্ডার, যার চাবি হচ্ছে প্রশ্ন করা। সুতরাং জ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন কর। কেননা, এতে চার ব্যক্তি সওয়াব পায়- (১) প্রশ্নকারী (২) জ্ঞানী ব্যক্তি (৩) শ্রোতা এবং (৪) যে তাদের প্রতি মহব্বত রাখে।
- হযরত আবু যরের (রাঃ) হাদীসে বলা হয়েছে: জ্ঞান সংক্রান্ত মজলিসে হাযির হওয়া হাজার রাকআত নামায পড়া, হাজার রোগীর খবর নিতে যাওয়া এবং হাজার জানাযায় যোগদান অপেক্ষা উত্তম।
- ইসলামকে জীবিত করার উদ্দেশে জ্ঞান অন্বেষণকালে যেব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, জান্নাতে তার এবং পয়গম্বরগণের স্তর হবে এক।
রসূলুল্লাহ (সাঃ) মুয়ায ইবনে জাবালকে ইয়ামন প্রেরণ করার সময় বললেনঃ
لأنْ يَهْدِيَ اللهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنَ الدُّنْيَا وما فيها .
“যদি আল্লাহ তাআলা তোমার দ্বারা একটি লোককেও পথ প্রদর্শন করেন, তবে এটা হবে তোমার জন্যে দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু অপেক্ষা উত্তম।”
কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা এবাদতকারী ও জেহাদকারীদেরকে বলবেন: জান্নাতে যাও। আলেম তথা জ্ঞানী ব্যক্তি বলবেন: ইলাহী! তারা আমাদের জ্ঞানের বদৌলতে এবাদত ও জেহাদ করেছে; অর্থাৎ সম্মান পাওয়ার যোগ্য আমরা। আল্লাহ তা’আলা বলবেন: তোমরা আমার কাছে আমার কোন কোন ফেরেশতার সমতুল্য। তোমরা সুপারিশ কর। তোমাদের সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। অতঃপর তারা সুপারিশ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ মর্তবা সে জ্ঞানের, যা শিক্ষাদানের মাধ্যমে অপরের কাছে পৌঁছায়। সে জ্ঞানের নয়, যা কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেই সীমিত থাকে এবং অন্যের কাছে পৌঁছায় না।
হযরত ওমর (রাঃ) বলেন: যেব্যক্তি কোন হাদীস বর্ণনা করে এবং তদনুযায়ী কাজ করে, সে সেসব লোকের সমান সওয়াব পাবে, যারা সে কাজটি সম্পাদন করবে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন: যেব্যক্তি মানুষকে ভাল কথা শেখায়, তার জন্যে সকল বস্তু, এমনকি সমুদ্রের মাছেরা পর্যন্ত এস্তেগফার করে।
- জনৈক আলেম বলেন: জ্ঞানী ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর সৃষ্ট জীবের মধ্যে যোগসূত্র স্বরূপ।
রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন: কেয়ামতে সকল মানুষের তুলনায় কঠোর আযাব সেই আলেমের হবে, যাকে আল্লাহ তাআলা এলেম দ্বারা কোন উপকার দেননি। তিনি আরও বলেন: এলেম অনুযায়ী আমল না করা পর্যন্ত মানুষ আলেম হয় না।
উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) বলেন: আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি-
কেয়ামতের দিন আলেমকে এনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে পড়বে। সে নাড়িভুঁড়ি নিয়ে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন গাধা যাঁতাকল নিয়ে ঘুরে। দোযখীরা তার আশেপাশে জমায়েত হয়ে জিজ্ঞেস করবে- তোমার এ পরিণতি কেন? সে বলবে: আমি অপরকে সৎকাজের আদেশ দিতাম, নিজে তা করতাম না এবং অসৎ কাজ করতে নিষেধ করতাম, কিন্তু নিজে তা করতাম।
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন-
“যে শিক্ষা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়, কেউ যদি সেই শিক্ষা দুনিয়ার অর্থসম্পদ পাওয়ার উদ্দেশে অন্বেষণ করে, তবে সে কেয়ামতের দিন জান্নাতের গন্ধও পাবে না।”
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলে আকরাম (সাঃ) বলেন: এ উম্মতের আলেম দুব্যক্তি-এক, যাকে আল্লাহ তা’আলা এলেম দিয়েছেন, সে মানুষের মধ্যে তা ব্যয় করে এবং অর্থের লোভ করে না। এরূপ ব্যক্তির প্রতি আকাশের পাখী, সমুদ্রের মাছ, পৃথিবীর চতুষ্পদ জন্তু এবং কেরামান কাতেবীন রহমতের দোয়া করে। সে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলার কাছে নেতা ও সম্ভ্রান্ত হয়ে আসবে; এমনকি, রসূলগণের সঙ্গে থাকবে। দুই, যাকে আল্লাহ ‘তা’আলা এলেম দিয়েছেন, কিন্তু সে তা মানুষকে দান করতে কৃপণতা করে, অর্থের লোভ করে এবং এর বিনিময়ে নিকৃষ্ট দুনিয়া ক্রয় করে। এরূপ ব্যক্তি কেয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় আসবে। জনৈক ঘোষক মানুষের সামনে ঘোষণা করবে- সে অমুকের পুত্র অমুক! আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে এলেম দিয়েছিলেন কিন্তু, সে কৃপণতা করেছে। মানুষকে এলেম শেখায়নি এবং লোভের হাত প্রসারিত করেছে। সকল মানুষের হিসাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে আযাবের মধ্যে থাকবে।
রসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন: পাপাচারী আলেম ও মূর্খ আবেদের কারণে আমার উম্মত বরবাদ হবে। সকল মন্দের মন্দ হচ্ছে মন্দ আলেম এবং সকল ভালর ভাল হচ্ছে ভাল আলেম। আওযায়ী বলেন: খৃস্টানদের গোরস্থান এই মর্মে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল যে, কাফের মৃতদের দূর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ হচ্ছি। আল্লাহ তা’আলা বলে পাঠালেন : মন্দ আলেমদের পেটের দুর্গন্ধ তোমাদের মধ্যকার দুর্গন্ধের চেয়ে বেশী।



