অপরাধ

কক্সবাজার পেকুয়ার পর এবার রূপগঞ্জ ইউএনও সাইফুলের অনিয়মের তথ্য চাইতেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে ও বন্টনে অনিয়ম সহ তথ্য গোপন এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাইফুল ইসলাম অতীতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তখনও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সে সময় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে লাইব্রেরি সংস্কার, উপজেলা ভবনের টয়লেট সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয় এই সাইফুলের স্ত্রী ফারজানা রহমানের বিরুদ্ধেও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিলো বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

বর্তমানে রূপগঞ্জ উপজেলায় বার্ষিক ১ শতাংশ (বিশেষ) বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ, ব্যয়ের খাত ও প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক এম শাহীন আলম।

সাংবাদিকের অভিযোগ, আবেদন করার পর ১ মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও নির্ধারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি তাকে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরেজমিনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যান। তাকে তার উপজেলা দাপ্তরিক কার্যালয়ে না পেয়ে পরোক্ষণে অসংখ্যবার সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য না পাওয়ায় তিনি সংবাদটি প্রকাশ করেন।

এরপর ইউএনও সাইফুল ইসলাম তিনি নিজেকে সেইভ করতে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিক এম শাহীন আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। সাংবাদিক শাহীন আলম অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, “বাস্তবে তো দূরের কথা” ইউএনওর সঙ্গে আমার মোবাইলেও কখনো কথা হয়নি। তিনি তো আমার ফোনই রিসিভ করেননি। অথচ আমার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সফর, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। ইউএনও নিজেকে সেইভ করতে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তিনি গতকাল আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন বলে সাংবাদিক এম শাহীন আলম দাবি করেন।

সাংবাদিক শাহীন আলম চ্যালেঞ্জ করে আরও বলেন,আমার এবং ইউএনও সহ রূপগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীর গত তিন মাসের কল রেকর্ড, কল লিস্ট, উপজেলা কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য যাচাই করা হউক। তা করলেই সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, অভিযোগের প্রমাণ দিতে না পারলে তিনি ইউএনওর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন।

সাংবাদিক এম শাহীন আলম দাবি করে আরও বলেন, তাকে তথ্য না দিয়ে ম্যানেজ করার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যোগসাজশে তাদের অফিসে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সহ একজন ক্যাশিয়ার পরিচয়ে ফোন করে বিষয়টি রফা করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এগুলো করার কি দরকার অনেক সাংবাদিকই তো আমাদের এখানে আসে, আপনিও আসেন আপনার সাথে কথা বলে আপনাকে সন্মান করে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে মোবাইল ফোনে প্রস্তাব দেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি রাজধানীর মতিঝিলে অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার কার্যালয়ে গিয়ে সংবাদটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। তবে পত্রিকার সম্পাদক এস এম মোরশেদের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও তিনি সংবাদ অপসারণে সম্মতি দেননি বলে জানান।

ইউএনও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নিজেকে প্রকাশ্যে বিএনপির মতাদর্শী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে জাহির করে চলেন। প্রশ্ন হলো সাইফুল ইসলাম কি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তার রাজনৈতিক দলের পরিচয় প্রকাশ্যে দিতে পারেন?

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, এলজিইডি, পিআইও, এডিবি, কাবিটা, এলজিএসপি ও বিশেষ বরাদ্দের প্রকল্পগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই ইউএনও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সরকারি দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া তথ্য এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button