মুরাদনগরে বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের,অভিযোক্ত পলাতক

এম এ মান্নান- (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ঘরে একা পেয়ে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীকে (৩৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজুর পর থেকেই অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ২টার মধ্যে উপজেলার ১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুঞ্জর দক্ষিণপাড়া (কেরানি বাড়ি) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আরিফ (৩৫)। সে একই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজিচালক। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, নির্যাতিতা নারী জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং লেখাপড়া জানেন না। প্রায় ৭-৮ বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার দিন দুপুরে তার মা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য স্থানীয় কোম্পানীগঞ্জ বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী বিবাহিত যুবক আরিফ ঘরে প্রবেশ করে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে মা বাড়ি ফিরে মেয়েকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ওই নারী তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি মাকে জানান এবং অভিযুক্ত আরিফকে শনাক্ত করেন। প্রথমে সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ঘটনায় গত ২৭ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মুরাদনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-২৩) দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত আরিফ পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। যেহেতু ভুক্তভোগী একজন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



