কুমিল্লা সড়ক বিভাগের উচ্চমান সহকারী আরিফুর রহমানের বিলাসবহুল ভবন নির্মাণে আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

এম শাহীন আলম: তার নিজ মুখের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৯০ দশকে ২০তম গ্রেডে সর্ব সাকুল্যে মাত্র ১৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা বেতনে অফিস সহকারী পদে চাকুরীর সুবাদে তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার শাকতলা এলাকার আঞ্চলিক সড়কের পাশে সাড়ে ৯ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন জেলা সড়ক বিভাগের বর্তমান উচ্চমান সহকারী (হিসাব শাখা) আরিফুর রহমান। আওয়ামী সরকারের আমলে এই ছোট পদে চাকুরীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে শ্রমিকলীগের নেতা পরিচয়ে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুমিল্লা সিটির শাকতলা এলাকায় ৯০ দশকে কেনা সেই সাড়ে ৯ শতাংশ জমির ওপর মডার্ন হাসপাতালের বিপরীত পাশে “সৌরভ টাওয়ার” নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন কুমিল্লা সড়ক বিভাগের বর্তমান উচ্চমান সহকারী মো. আরিফুর রহমান।
এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আরিফুর জেলার লালমাই এর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের সঞ্চয় পত্র রয়েছে তার।
সড়ক বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আরিফুর এবং আনিস সহ বেশ কয়েকজন মিলে শ্রমিকলীগ নেতা পরিচয়ে একটি দলীয় সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে সাবেক এমপি বাহারের মতাদর্শী পরিচয়ে সরকারি কাজ ভাগবাটোয়ারা সহ পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের ট্রেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি লুটপাট করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়ে আরিফুর রহমানের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার জায়গায় এবং বাড়িটি তার বলে শিকার করেন। অন্যান্য সম্পদের কথা শিকার করেননি এবং তার বিরুদ্ধে নিউজ না করতে আকুতি জানিয়ে টাকা পাঠাতে বার বার বিকাশ নাম্বার চান। তার দাবি কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সিনিয়র এক সাংবাদিক তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এর আগে আরো কয়েকজন তাকে এই বিষয়ে নক করেছিলো। আরিফুর রহমান আরো বলেন,আমার চাকুরিও শেষ পর্যায়ে আপনি আমাকে নিয়ে কষ্ট করেছেন নিউজটা কইরেন না বিষয়টা জানাজানি হলে আমার মান-সন্মান থাকবে না। আরো অনেক সাংবাদিকই আমার সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছে তাদের আমি সন্মানিত করেছি আপনি আমাকে একটা বিকাশ নাম্বার দেন আমি আপনাকে সন্মান করতে চাই বলে জানান।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরের সংখ্যায় আরো নতুন তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।



