
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি বিএম গেইট এলাকার মীর ব্রিকফিল্ড রোডের গোয়ালিনী ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর বসে এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিউল ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এ জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে ফেলাশ, কাইট, পয়সাসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার খেলা চলে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দূর-দূরান্ত থেকেও বহু খেলোয়াড় সেখানে অংশ নিতে আসেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক কারবার বেড়েছে এবং এটি বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে দেশীয় অস্ত্র বহনকারী ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ওই জুয়ার আসরের নিয়মিত খেলোয়াড় বলে পরিচয় দিয়েছেন, অভিযোগ করেন যে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তাদের কাছে এমন ভিডিও, অডিও ও স্থিরচিত্র রয়েছে যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার দৃশ্য দেখা যায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছেও পৌঁছেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রবিউল ও ইব্রাহিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জুয়ার আসর, মাদক কারবার, অস্ত্রের মজুদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।



