অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বায়েজিদে দেশীয় এলজি, কার্তুজ ও মোটরসাইকেলসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, এক রাউন্ড কার্তুজ ও একটি মোটরসাইকেলসহ হায়দার আলী ওরফে জনি (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) রাত প্রায় ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বেলালের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স এলাকায় অস্ত্র ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আমিন জুট মিল কাঁচাবাজার এলাকা থেকে একজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে একটি অবৈধ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে যাচ্ছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তকে আটক করতে পুলিশ দ্রুত বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আমিন জুট মিলস বাজার সংলগ্ন রেলবিটের পশ্চিম পাশে রহমত আলীর কলোনির সামনে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। কিছুক্ষণ পর কাঁচাবাজারের দিক থেকে আসা একটি লাল রঙের TVS 4V মোটরসাইকেল থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজের নাম হায়দার আলী ওরফে জনি (২৮) বলে পরিচয় দেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি চালানো হলে কোমরের পেছনে পাঞ্জাবির নিচে প্যান্টের সঙ্গে গোঁজা অবস্থায় একটি খয়েরি ও কালো রঙের দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার জিন্স প্যান্টের সামনের বাম পকেট থেকে একটি ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়, যার পেছনে “12 NOBEL 12 SPORT” লেখা ছিল। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত চট্টমেট্রো-ল-১৭-০৩৭১ নম্বরের লাল রঙের TVS 4V মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ বহনের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধভাবে অস্ত্র নিজের হেফাজতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা নং-০৯, তারিখ ৪ জুলাই ২০২৬, The Arms Act, 1878-এর 19A ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, কারা এটি সরবরাহ করেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হায়দার আলী ওরফে জনির বিরুদ্ধে এর আগেও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। তার অতীত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সহযোগী এবং সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীতে সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্র বহন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা অপরাধমূলক যেকোনো তথ্য সম্পর্কে জনগণকে নিকটস্থ থানায় বা পুলিশের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



