আইন-শৃঙ্খলাকুমিল্লা

কুমিল্লায় কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান সহযোগী আলামিন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লাকসামে এক কিশোরীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় দীর্ঘ ৪ মাস পর মামলার ২নং আসামি আলামিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। মামলার বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায় থেকে সরাসরি তদারকি করা হচ্ছিল।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে লাকসাম এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাস ভিকটিমকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক মাদক সেবনে বাধ্য করা হয়। গত ১০ এপ্রিল ভিকটিমকে প্রথমবার উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসা চলাকালীন ২০ এপ্রিল তাঁকে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় অপহরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২৩ জুন আলামিন (২১) নামে ওই যুবক ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে তাঁকে উদ্ধারে নামমাত্র সহায়তা করে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে লাকসাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-২১) দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন— পশ্চিমগাঁও এলাকার শাহাজাহান মজুমদারের ছেলে সুফিয়ান মজুমদার ওরফে শামীম (২২), গোবিন্দপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে আলামিন (২১) এবং মৃত সিদ্দিক মজুমদারের ছেলে শাহাজাহান (৫৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ মো. মনিরুজ্জামানের সরাসরি পর্যবেক্ষণে থাকা এই মামলার আসামিদের ধরতে তৎপর হয় প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের দিকনির্দেশনায় লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী এবং এসআই মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ আজ ভোরে আলামিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, “২নং আসামি আলামিনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামি সুফিয়ান ও শাহাজাহানসহ অন্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে মামলার বাদী ও ভিকটিমের মা ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘ ৪ মাস আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। গত ১৪ জুন বিষয়টি আইজিপি ও ডিআইজি মহোদয়কে অবহিত করার পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে তদারকি শুরু হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। একই সঙ্গে বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি সাংবাদিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত সকল অপরাধীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button