ফ্যাসিবাদী ওসি শরীফের ক্ষমতার অপব্যবহারে দেওয়ান বাজারের বাসিন্দারাও ছিলেন অসহায়

এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: ১৯৭১-এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর। অথচ কিছুসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে এ বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে। সেইসব বিতর্কিত পুলিশের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোহাম্মদ শরীফ। সিএমপির কর্ণফুলি থানায় প্রায় ৯ মাস কর্মরত অবস্থায় বাকলিয়ার দেওয়ান বাজার এলাকার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপটে ছিলো শরীফ এবং তার পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা। দেওয়ান বাজার এলাকায় রয়েছে তার বিশাল চাঁদাবাজ গ্রুপ। স্হানীয় মুদির দোকানী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও তার বাহিনীর কাছে ছিলো একেবারে অসহায়। দেওয়ান বাজার এলাকায় পুলিশ বাহিনীর কলঙ্ক ওসি শরীফের ভয়ে কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও খেটে খাওয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য ও স্হানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেছেন শরীফ অত্যন্ত হিংস্র ও অসৎ প্রকৃতির লোক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেওয়ান বাজার এলাকায় তার রাজনৈতিক তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রতিবছর ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করতেন শোকসভা এবং ১৭ ই মার্চ পালন করতেন শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, পালন করতেন শেখ হাসিনার জন্মদিন। এতে চাঁদাবাজি হতো গণহারে। আর এই চাঁদাবাজিতে নেতৃত্ব দিতেন পুলিশ শরীফ। তার এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল ।
বিগত ২০২৪ (৫ আগষ্ট) ছাত্র জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতা- মন্ত্রী ও এমপিদের আশীর্বাদপুষ্ট ঘাপটি মেরে বসে থাকা চাটুকার পুলিশ কর্মকর্তারা
বিএনপি সেজে সব ধরনের সুবিধা নিচ্ছেন। তারমধ্যে সুবিধাভোগীর সিরিয়ালে শরীফও একজন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে। কেউ কেউ পেয়েছেন ভালো জায়গায় পোস্টিং।
নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে পদায়ন হয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং নিয়েছেন কেউ কেউ। এই তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারীঘটিত কারণে প্রমোশন পাচ্ছিলেন না। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংসহ বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দাপটের কারণে দীর্ঘদিনের সত্যিকারের বঞ্চিত ও মেধাবী কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যে কর্মকর্তার চাকরি থাকাটাই একটি বিস্ময়, সেখানে মোহাম্মদ শরীফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সিএমপির কর্ণফুলি থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে যান। এরপর ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের বিত্তশালী নেতাদের সঙ্গে তার
সখ্যতা গড়ে উঠে। এছাড়াও শরীফ ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। সিআইডি- ডিবি ও কর্ণফুলি থানায় থাকা অবস্থায় ইয়াবা চোরাকারবারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ব্যাপক অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী অর্থ পাচারকারী সাইফুজ্জামান জাবেদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে চাকরি করছেন বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তা।



