তুরাগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে মাটি লুটের অভিযোগ, কাঠগড়ায় কথিত বিএনপি নেতা ইউনুস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় বিএনপি নেতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপউবো) সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে শুক্রভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ইউনুস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও বেড়িবাঁধ কর্তন ও মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন উত্তরা ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ পাশে সুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ কেটে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাপউবো-এর কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে সেখানে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টানিয়ে দেন এবং কথিত বিএনপি নেতা ইউনুসের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নম্বর: ১৩৭২, ট্র্যাকিং নম্বর: NSA9W)।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পরদিন ২২ জুন দিবাগত রাতে ইউনুস তাঁর অনুগত একদল শ্রমিক দিয়ে লাল নিশান তুলে ফেলে পুনরায় বেড়িবাঁধ খনন কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তের লোকজন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে সরকারি অবকাঠামো নষ্ট করার পরও পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তুরাগ থানা বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার তদবিরের কারণে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাবোধ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইউনুস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় চলতেন। তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে তুরাগ থানা বিএনপির নেতা হিসেবে দাবি করতে শুরু করেন।
এ বিষয়ে তুরাগ থানা বিএনপির নেতা হারুনুর রশিদ খোকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শুক্রভাঙ্গার বাসিন্দা ইউনুস নামের ওই ব্যক্তির বিএনপিতে কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে ইউনুস এলাকায় নানা অপকর্ম চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও শুক্রভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কাজী আতিক ও তাঁর ছেলে জসিমকে একটি মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামি করার পেছনে ইউনুসের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে তুরাগ থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমানকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের ওপর হয়রানি ও জুলুম চালানো হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।
এ ছাড়া, গত ১৭ বছর ধরে তুরাগ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ড্রেজার ব্যবসা এবং খাস জমি ও মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা দখলের মাধ্যমে ইউনুস বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে দল পরিবর্তন করে তিনি চাঁদাবাজি, নদী দখল ও গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও তুরাগ থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত দ্রুত এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি, দল পরিবর্তন করে সুযোগ সন্ধানকারী এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মীরা।



