অপরাধঢাকা বিভাগদুর্নীতিদেশ

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলামের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ ২শ কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার হাইকোর্টের রায় গোপন ভূমিদস্যুতায় সালাহউদ্দিন

রাজউকের চেয়ারম্যানের এই সফলতা নজিরবিহীন। রাজউক মানেই যেন আতঙ্কের নাম। এমন ধারণা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। বছরের পর বছর যে বিশালাকারের জমি উদ্ধারে ইতোপূর্বে রাজউকের কোন চেয়ারম্যান উদ্যোগ নেন নি তা বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলাম নিয়েছেন ও সফল হয়েছেন। জনমনে রাজউক সম্পর্কে একটি বিরুপ ধারণা ছিল। এই ধরাণার মূলোৎপাটন করেছেন চেয়ারম্যান মো: রিয়াজুল ইসলাম। তিনি অত্যন্ত কঠোর প্ররিশ্রম করে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার জমি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের আগে এই বিশালকারের জমি একজন ভূমিদস্যুর অবৈধ দখলে ছিল। কে এই ভূমিদস্যু তা অনেকেরই জানা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভূমিদস্যু নামক একটি শ্রেণী ক্রমশ: আত্মপ্রকাশ করে। তারা আইন কানুন ও সাধারণ জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি খাস জমি, সাধারণ জনগণের জমি এমনকি কৃষিজমি দখলে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করে আসছে। এসব ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে অনেকে অসহায় ও নি:স্ব হয়ে গেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিঘার পার বিঘা কৃষিজমি ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে প্রকৃত জমির মালিকের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। যা হোক ঢাকার মতিঝিলে ২০০ কোটি টাকার জমি উদ্ধারের মাধ্যমে রাজউক চেয়ারম্যান ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জমি উদ্ধার করা যায় বলে একটি নজির সৃষ্টি করেছেন। এখানে রাষ্ট্রের স্বার্থে কিভাবে আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে সফল হওয়া যায় তার একটি রোল মডেল সৃষ্টি করেছেন রাজউকের বর্তমান এই চৌকষ চেয়ারম্যান। সরকারের এই বিশাল জমি উদ্ধারের পর বিশিষ্টজনরা বলছেন যে, দেশের সম্পদ অন্যের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার ফলে জনস্বার্থ রক্ষা হবে এবং ভূমিদস্যুতা নিরুৎসাহিত হবে। সম্প্রতি অনেক সেবাগ্রহি মন্তব্য করেছেন যে, রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান বহুতল ভবন নির্মানে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনে কালক্ষেপন করেন। চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলেই একজন সেবাগ্রহিকে চাহিদা মতো সেবা প্রদান করতে পারেন না। কারণ এ ক্ষেত্রে অনেক আইনি জটিলতা রয়েছে যা সাধারণ জনগণকে বুঝানো যায় না। একটি শ্রেণী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি অখ্যাত পত্রিকায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে তার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। সেই সঙ্গে ক্ষুন্ন হয়েছে রাজউক নামক প্রতিষ্টানটির সুনাম। যা কাম্য নয়। মতিঝিলে অর্থাৎ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে এত বড় জমি উদ্ধারকাজে সফলতা আমাদেরকে ভাল কাজে ও দেশের জন্য নিস্বার্থভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করবে।

ভূমিদস্যু এস এ পরিবহনের কবল থেকে রাজউকের বিশাল জমি উদ্ধার হয়েছে। বছরের পর বছর এই জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছিল এস এ পরিবহন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক সম্প্রসারিত মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকার প্রকল্পের জন্য এলএ কেস নং-১/১৯৮৫-১৯৮৬ ও ২১/১৯৯০-১৯৯১ এর মাধ্যমে সাবেক শহর ঢাকা হালে মতিঝিল মৌজার সিএস ০১ দাগে ১.৪০ একর জমিসহ অন্যান্য দাগে মোট ৮.১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। গত ০৮.০২.১৯৯২ খ্রি: ও ১১.০৫.১৯৯৪ খ্রি: তারিখে জেলা প্রশাসক, ঢাকা এর প্রতিনিধি কর্তৃক উল্লিখিত ০১ দাগে ১.৪০ একর জমির দখল রাজউক বরাবরে বুঝিয়ে দেয়া হয়। গত ১৩.০৭.১৯৯৫ খ্রি: তারিখে নালিশী জমির গেজেট প্রকাশিত হয়। রাজউক কর্তৃক উক্ত জমি বুঝিয়া পাওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নপূর্বক কিছু সংখ্যক প্লট নিলামে বিক্রয়/বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং কিয়দাংশ জমি অব্যবহৃত থেকে যায়। বিগত করোনকালীন সময়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ভূমিতে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উক্ত সময়ে এস.এ পরিবহন প্রা: লিঃ ১/৮৫-৮৬ ও ২১/৯০-৯১ এলএ কেস ভূক্ত অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে (মৌজা-সাবেক শহর ঢাকা হালে মতিঝিল, সিএস দাগ নম্বর-০১, আরএস দাগ নম্বর-২৬৬৩, সিটি দাগ নম্বর- ৩৭০১/৩৮৮৭, ৩৭০১/৩৮৮৮, ৩৩৮৯, জমির পরিমাণ-৫১.৫৩ শতাংশ) অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশ এর বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৫.১১.২০২১ ইং তারিখে সীমানা নির্ধারণ করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজউক কর্তৃক গৃহিত কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে এস. এ পরিবহন কর্তৃপক্ষ রীট পিটিশন নং-১০৭৪৬/২০২১ দায়ের করে।

রিট পিটিশন নং-১০৭৪৬/২০২১ মামলার তফসিল: মৌজা-সাবেক শহর ঢাকা হালে মতিঝিল, সিএস খতিয়ান নং-৩৮৩৩, সিটি খতিয়ান নং-২৪০ ও ২৪২, সিএস দাগ নং-০১. সিটি জরিপ দাগ নং-৩৩৮৯, ৩৭০১/৩৮৮৭, ৩৭০১/৩৮৮৮, জমির পরিমাণ-৫১.৫৩ শতাংশ। রেকর্ডদৃষ্টে দেখা যায়, উক্ত তফসিলভূক্ত জমি এলএ কেস নং-১/৮৫-৮৬ ও ২১/৯০-৯১ এর মাধ্যমে সম্প্রসারিত মতিঝিল ব্যানিজ্যিক এলাকার জন্য রাজউক কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। আবেদনকারী (বাদী-এসএ পরিবহন) বিবাদী নং-০২ (জেলা প্রশাসক, ঢাকা) কর্তৃক এলএ কেস নং-১/৮৫-৮৬ ও ২১/৯০-৯১ এর অধীনে অধিগ্রহণ করা জমিগুলো চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণ করার নির্দেশনা চেয়েছিল। পিটিশনের শুনানির পর মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি বিধি জারী করে বিবাদীদেরকে কারণ দর্শানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন যে, কেন বিবাদীদের পদক্ষেপ ব্যতিত ঘোষণা করা হবেনা। আইনানুগ কর্তৃত্ব এবং কোন আইনী প্রভাব নেই এবং বিবাদী নং-০২ কে এলএ কেস নং-১/৮৫-৮৬ ও ২১/৯০-৯১ এর মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত জমি পিটিশনকারীদের উপস্থিতিতে একটি যৌথ জরীপ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্মারক নং- ০৫.৪১.২৬০০.০৩৩.১৮.০০১.১৩-১০, তারিখ: ১৭.০১.২০২২ এর মাধ্যমে জারীকৃত পত্রের আলোকে বিবাদী নং- ০২ যৌথ সমীক্ষায় উপস্থিত থাকার জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। নির্ধারিত তারিখে জেলা প্রশাসক, ঢাকা (এলএ শাখা) এর প্রতিনিধি দল ও আবেদনকারীগণ উপস্থিত ছিলেন এবং যৌথ জরীপ করেছেন। যৌথ জরীপ করে জেলা প্রশাসক, ঢাকা কর্তৃক প্রতিবেদন প্রদান করা হয় যে, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রীট পিটিশন নম্বর-১০৭৪৬/২০২১ মোকদ্দমায় বিগত ১৪/১১/২০২১ তারিখে প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নকল্পে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এর ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-০১ এর স্মারক নং-০৫.৪১.২৬০০.০৩৩.১৮.০০১.১৩-১০ তারিখ: ১৭/০১/২০২০ মোতাবেক জারীকৃত পত্রে এ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার, কানুনগো, রাজউক এর উপযুক্ত প্রতিনিধি সমন্বয়ে ০১/৮৫-৮৬ ও ২১/৯০-৯১ নং এল.এ. কেসমূলে অধিগ্রহণকৃত শহর ঢাকা মৌজার সি.এস. ৬৫ নং শীটের ১নং দাগের ভূমি রীট পিটিশনারের উপস্থিতিতে পরিমাপের জন্য ১৯/০১/২০২২ তারিখ সকাল ১০:০০ টায় ধার্য করে সংশ্লিষ্ট সকলকে পত্র দেয়া হয়। রাজউক এর স্মারক নং-রাজউক/এস্টেট ও ভূমি-১/সম্প্র: মতি: বাএ/২৭/২০২১/৩৩৩ (৪) তারিখ: ১৮/০১/২০২০ মূলে যৌথ পরিমাপের জন্য রাজউক এর প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক যথাসময়ে রাজউক এর পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ও উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) এর উপস্থিতিতে নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ কর্তৃক যৌথ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। যৌথ জরিপকালে রীট পিটিশনারগণের প্রতিনিধি হিসেবে বেশ কিছু লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরিমাপান্তে বর্ণিত দু’টি এল.এ. কেসে অধিগ্রহণকৃত (১.২৮+০.১২ একর) = ১.৪০ একর ভূমির সীমানা চিহ্নিত করা হয় এবং তাতে দেখা যায়, রীট পিটিশনারগণ কর্তৃক দাবীকৃত ভূমি সম্পূর্ণরূপে অধিগ্রহণকৃত ভূমির অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, শহর ঢাকা মৌজার সি.এস. ৬৫ নং শীটের ১নং দাগের ২ ষোল আনা অংশে ৯.৭৬ একর ভূমির কাতে ১/৮৫-৮৬ নং এল.এ. কেসে ১.২৮ একর ও ২১/৯০-৯১ নং এল.এ. কেসে ০.১২ একর ভূমি রাজউক এর অনুকূলে অধিগ্রহণ করে যথাক্রমে বিগত ২৫/০৮/১৯৯১ ও ০৮/০২/১৯৯২ তারিখে দখল হস্তান্তর করা হয় এবং বিগত ১৩/০৭/১৯৯৫ তারিখে চুড়ান্ত অধিগ্রহণের গেজেট প্রকাশিত হয়। অধিগ্রহণের পর প্রণীত সিটি জরিপের রেকর্ডে উক্ত ভূমি রাজউক এর নামে না হয়ে প্রতারণামূলকভাবে (ঋৎধঁফঁঃবহঃ ঊহঃৎু) পূর্ববর্তী মালিকগণের নামে প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে আরো উল্লেখ্য যে, রীট পিটিশনারগণ যাদের মালিকানার ধারাবাহিকতায় খরিদ সূত্রে মালিকানা দাবী করেছেন, তাদেরকেই অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট অধিৎফ নড়ড়শ দৃষ্টে প্রতীয়মান হয়।” মহামান্য আদালত গত ২২.০৪.২০২৪ খ্রিঃ তারিখ শুনানী অন্তে রিট পিটিশন নং- ১০৭৪৬/২০২১ মামলাটি খারিজ করে রাজউকের পক্ষে রায় প্রদান করেন। মহমান্য আদালত কর্তৃক রিট পিটিশন নং-১০৭৪৬/২০২১ মামলাটি খারিজ করায় রাজউক কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচলনার মাধ্যমে নালিশী জমি হতে বাদীকে উচ্ছেদ করা হয় এবং গেইট সিলগালা করা হয়। পরবর্তীতে বাদী (এস.এ পরিবহন) কর্তৃক হাইকোর্টের রায়কে গোপন করে বিজ্ঞ ৫ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকায় দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-৪৭৭/২০২৪ দায়ের করে গত ০৩/০৬/২০২৫ খ্রি. তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রী লাভ করে। উক্ত আদেশ প্রাপ্তির পর বাদী পক্ষ (এস.এ পরিবহন) কর্তৃক সিলগালা ভেঙ্গে নালিশী জমিতে অনুপ্রবেশ করেন। পরবর্তীতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রী সম্পর্কে রাজউক অবগত হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে এফ.এম.এ.টি নং- ৯৯/২০২৬ দায়ের করে গত ১৩/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রী ভ্যাকেট করে গত ১৩/০৫/২০২৬ ও ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে উচ্ছেদ পরিচালনা করে এসএ পরিবহনের অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে এফ.এম.এ.টি নং-৯৯/২০২৬ এর আদেশে সংক্ষুদ্ধ হয়ে এসএ পরিবহন মহামান্য আপিল বিভাগে সি.এম.পি নং-৩৬৯/২০২৬ ও সিপিএলএ নং-১৭৭৯/২০২৬ দায়ের করে। যা মহামান্য আপিল বিভাগ গত ২২/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে শুনানীর পরে খারিজ করে দেন। মহামান্য আপিল বিভাগ কর্তৃক মামলা খারিজ করার পর রাজউক মোবাইল কোর্ট পরিচলনার মাধ্যমে নালিশী জমিতে বাদী পক্ষের পার্কিং করা ১৮ (আঠারো) টি কাভার্ড ভ্যান অপসারণপূর্বক নালিশী জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। রাজউকের চেয়ারম্যানের এই সফলতা নজিরবিহীন। এদিকে ভূমিদস্যু এস আলমে কর্তৃক এত বিশালাকারের জমি অবৈধ দখলে রেখে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button