
হাবিব সরকার স্বাধীন, বিশেষ প্রতিবেদক:
ঢাকার ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সাধারণ কম্পিউটার অপারেটর শামীম হোসেন এবং তাঁর সিন্ডিকেটের সীমাহীন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করলেও, অলৌকিক ক্ষমতাবলে এখনও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন অভিযুক্ত শামীম। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এই অপরাধী চক্র কীভাবে এখনো অদম্য—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর তোলপাড় ও ভুক্তভোগীদের তোপ
‘অপরাধ বিচিত্রা’য় শামীমের রামরাজত্ব ও কোটিপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের পর ধামরাইয়ের সাধারণ ব্যবসায়ী, বেকারি মালিক ও প্রান্তিক মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভের আগুন কমেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর শামীম ও তাঁর সিন্ডিকেটের সদস্যরা আরও সতর্ক হয়ে ডালপালা গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তাদের চাঁদাবাজি ও অফিস ঘিরে জিম্মিদশা তৈরির চক্রান্ত এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পটপরিবর্তন হলেও শামীম কেন এখনো বহাল?
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যেখানে ধরাশায়ী, সেখানে ধামরাই ইউএনও অফিসের এক সাধারণ কর্মচারী শামীম কীভাবে পদে বহাল থেকে আগের মতোই প্রভাব খাটচ্ছেন? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত সরকারের আমলে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বদলি ঠেকানো শামীম এবার নতুন কৌশলে প্রশাসনের ভেতর নিজের খুঁটি শক্ত করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ও নিজেকে ‘অপরিহার্য’ প্রমাণের ভান করে তিনি এখনও নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছেন।
অনুসন্ধানে উঠে আসা নতুন তথ্য
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে ‘শামীম গং’-এর জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির আরও নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে:
ভুয়া নথিপত্র ও ফাইল আটকে রাখাল খেলা: সেবাগ্রহীতারা কার্যালয়ে এলে কৌশলে তাঁদের ফাইল আটকে রেখে মোটা অঙ্কের স্পিড মানি দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘোরানো হয় সাধারণ মানুষকে।
প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নীরব চাঁদাবাজি: ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনিক অভিযানের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের যে নেটওয়ার্ক শামীম তৈরি করেছিলেন, তা এখনো তাঁর বিশ্বস্ত ক্যাডারদের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে।
জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন
ধামরাইয়ের সচেতন মহল ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষের ছাত্র-জনতা প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটরের অবৈধ সম্পদের পাহাড় এবং ক্ষমতার দাপট কি তবে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে? নাকি অদৃশ্য কোনো সুতার টানে শামীমকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে?
স্থানীয় এক ক্ষুব্ধ অধিবাসী জানান:
”আমরা ভেবেছিলাম নতুন বাংলাদেশে এই দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য থামবে। কিন্তু শামীমের মতো অপরাধীরা এখনো চেয়ারে বসে থাকলে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। প্রশাসনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অপরাধ বিচিত্রার অবস্থান
দেশ ও জনস্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘অপরাধ বিচিত্রা’র অবস্থান সর্বদা আপসহীন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং সরকারি দপ্তরকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অনুসন্ধানী যাত্রা থামবে না।
ধামরাইয়ের ইউএনও অফিসকে দালাল ও শামীম মুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ধামরাইবাসী।
(শামীম গংয়ের অবৈধ সম্পদের ব্যাংক হিসাব, বেনামী সম্পত্তি ও নেপথ্যের কলকাঠি নাড়ানো অদৃশ্য শক্তির মুখোশ উন্মোচনে ‘অপরাধ বিচিত্রা’র চোখা নজর অব্যাহত রয়েছে… চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।)



