অনুসন্ধানঅপরাধঅভিযানঢাকাপ্রতারনা

অটোরিকশা চালককে জিম্মি করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, কুদ্দুস-কুত্তা জুয়েলসহ ৪ গ্রেফতার

১| ‘‘বাংলাদেশ আমার অহংকার”-এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশব্যাপী অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে| সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে র‌্যাব জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে| একইসাথে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত উদঘাটন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে|

২| ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকার চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুন্দর আলী (৪৬), পিতা- শুক্কুর আলী, পেশায় একজন অটোরিকশা চালক| প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ে দেখার জন্য গত ১৯/০৭/২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৭.৩০ ঘটিকায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন গোলাম বাজার হতে কোনাখোলা হয়ে রামেরকান্দা এলাকার দিকে রওনা হন| পথিমধ্যে কোনাখোলা হয়ে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে আসামি কুদ্দুস’সহ ৪ জন আটককারী তার অটোরিক্সার গতিরোধ করে| তারা তাকে মারধর করে জোরপূর্বক নিজেদের অটোরিক্সায় তুলে রামেকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়| সেখানে ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার পরিবারের কাছে ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়| এ সময় অপহরণকারীরা ভিকটিমকে চেতনা নাশক ঔষধ খাওয়ায়| অপহরণকারীরা ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে| পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ০২.০০ ঘটিকায় ভিকটিমকে আসামি রাকিবের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়| সেখানে আটকে রেখে পুনরায় তার পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়| একপর্যায়ে ভিকটিমের পরিবার নগদের মাধ্যমে প্রথমে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পাঠায়| কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও ভিকটিমকে মুক্তি না দিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমের পরিবারকে বারংবার ফোন দিতে থাকে| ভিকটিমকে উদ্ধার করতে পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে আত্মীয়-¯^জনদের নিকট হতে টাকা ধার করে নগদের মাধ্যমে আরও ৩৯,০০০/- (উনচল্লিশ হাজার) টাকা আটককারীদের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে পাঠান| উপায়ন্তর না পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে ভিকটিমের সুমন্দী দক্ষিন কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন এবং থানার লিখিত অভিযোগের কপিসহ অধিনায়ক র‌্যাব-১০ বরাবর ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করেন| তাৎক্ষনিকভাবে র‌্যাব-১০ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক টীম ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে| একই সাথে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের অবস্থান সনাক্ত করতে সমর্থ হয়|

৩| এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০/০৭/২০২৬ তারিখ দুপুর ১৪.০৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১০, সদর কোম্পানী এর চৌকস একটি আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি রাকিবের ভাড়া বাসা হতে তালাবদ্ধ অবস্থায় চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক মো: সুন্দর আলীকে উদ্ধার করে এবং আটককারী চক্রের সদস্য ১| মো: কুদ্দুস মিয়া (৩৮), পিতা- মৃত মোজাফফর বাদশা, সাং- কাজিরচর, থানা- মুলাদী, জেলা- বরিশাল, ২| মোঃ জুয়েল রানা @ কুত্তা জুয়েল (৪০), পিতা- হাজী আ: করিম, সাং- শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া, থানা- দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা ৩| মোঃ রাকিব হাওলাদার (২৬), পিতা- আব্দুর রাজ্জাক, সাং- কৈখালী, থানা- বাউফল, জেলা- পটুয়াখালী, ও ৪| মোঃ অপু মীর @ বায়োজিত (৩৫), পিতা- শাহাবুদ্দিন মীর, সাং- কাউখালি, থানা- রাঙ্গাবালী, জেলা- পটুয়াখালী’সহ উক্ত আটককারী চক্রের মোট ০৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে|

৪| গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ কুদ্দুস মিয়া (৩৮) এর বিরুদ্ধে ০২(দুই) টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ০১(এক) টি অস্ত্র আইনসহ মোট ০৪ (চার) টি মামলা রয়েছে, আসামি মোঃ রাকিব হাওলাদার (২৬) এর বিরুদ্ধে ০১(এক) টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা রয়েছে, আসামি মোঃ জুয়েল রানা @ কুত্তা জুয়েল (৪০) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ০৫ (পাঁচ) টি মাদক মামলা রয়েছে ও আসামি অপু মীর @ বায়জিদ (৩৫) এর বিরুদ্ধে ০২(দুই) টি চাঁদাবাজি, ০১(এক) টি ডাকাতির প্রস্তুতি ও ০১( এক) টি নারী শিশু মামলা রয়েছে| গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button