অনুসন্ধানঅপরাধঅভিযান

মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদারের নেতৃত্বে অপরাধকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ভুক্তভোগী তাহের মিয়া জীবিত উদ্ধার

রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী তাহের মিয়াকে ৬ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের মূলহোতা তৌহিদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে এসআই আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ টিম এবং নরসিংদীর র‍্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে অপহৃত তাহের মিয়াকে উদ্ধার করা হয় এবং জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের মতিঝিল থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া তাহের মিয়ার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মতিঝিলের ২৮ দিলকুশা ফার্স্ট গ্লোবাল ওভারসিজ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর একদল দুষ্কৃতকারী তাহের মিয়াকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাহেরের বন্ধু রফিক তার স্ত্রীকে জানান যে, কয়েকজন ব্যক্তি তাহেরকে তুলে নিয়ে গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের প্রায় তিন দিন পর ওয়াহিদ নামের এক ব্যক্তি ইমো নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে অপহরণকারী দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তিনি হুমকি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাহের মিয়াকে হত্যা করা হবে।মতিঝিল থানার অভিযানে অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, জীবিত উদ্ধার ভুক্তভোগী তাহের মিয়া
ঢাকা: মতিঝিল থানার এসআই আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অপহৃত ব্যবসায়ী তাহের মিয়াকে উদ্ধারে নরসিংদীর বেলাবো থানার আওতাধীন নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাহের মিয়াকে পাশের একটি নদীতে নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তিনি কৌশলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আত্মগোপন করে প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে নদী ছেড়ে পূর্বনির্ধারিত স্থানে যায়, যেখানে তারা তাহের মিয়ার স্ত্রীকে টাকা নিয়ে আসতে বলেছিল। ওই সময় সাদা পোশাকে অভিযান চালিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করে মতিঝিল থানায় নিয়ে আসে।
পরে আসামিরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে—এ খবর জানতে পেরে তাহের মিয়া মতিঝিল থানায় এসে অপহরণের মামলা দায়ের করেন।
থানায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পর বাবাকে ফিরে পেয়ে তাহের মিয়ার শিশু কন্যা তানহা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাবাকে জড়িয়ে ধরে। পরে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার উদ্ধার হওয়া তাহের মিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন।
এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার এবং এসআই আনিসুর রহমানের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মতিঝিল থানা পুলিশ একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে কুখ্যাত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button