যাত্রাবাড়ীতে স্ত্রী পরিচয় না দিয়ে স্ত্রীর সার্টিফিকেটকে হাইলাইটস করে ভুয়া ডাঃ দেলোয়ারে প্রতারণানিজস্ব

প্রতিবেদক:
যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় স্ত্রী পরিচয় না দিয়ে স্ত্রীর সার্টিফিকেটকে হাইলাইটস করে সুবিন ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ভুয়া ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সীমাহীন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এলাকায় খ্যাতিমান প্রতারক হিসেবে পরিচিত। গ্রামীন- বাংলালিংকের চাইতেও অনেক বড় শক্তিশালী তাদেন। নেটওয়ার্ক। ডিসি, এসি, র্যাব-পুলিশ সবই আছে তাদের আছে তাদের মানিব্যাগে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে এই প্রতারক দম্পতি রোগীদেরকে প্রতারণার ফাদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা। ভুয়া দাতের ডাক্তার দেলোয়ার এলাকায় খুব ভয়ংকর এবং তার স্ত্রী লতার দেয়া নারী নির্যাতনের মামলার ভয়ে সবাই তা নিরবে সহ্য করে। কেউ ঝামেলার ভয়ে মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া ডাঃ দেলোয়ার হোসেন রোগীদের নিকট তার স্ত্রীকে স্ত্রী পরিচয় না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জারি ডাঃ হিসাবে পরিচয় দিয়ে অবিরত প্রতারণা করে যাচ্ছে। দেলোয়ারের স্ত্রী ডাঃ সাবানা আক্তার লতা কোন মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে ডাক্তার হয়েছে তার কোন ইতিহাস খুজে পাওয়া যায়নি। অথচ রোগীদের নিকট তাকে বিশাল বড় মানের ডেন্টাল চিকিৎসক উপস্থাপন করেন তার স্বামী দেলোয়ার। এতে লাভ হয় রোগীরা তার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রোগীরা কখনো কোনো ডাক্তারের সার্টিফিকেট দেখতে চায় না। আর ডাক্তার কি চিকিৎসা দিল না দিল তা নিয়েও মাথা ঘামায় না। বরং ডাক্তার যা বলেন রোগীরা তাই বিশ্বাস করে। ডাক্তার বলেছে জাপানি ঔষধ খেলে রোগ ভালো হবে রোগী বিশ্বাস করে মোটার বিনিময়ে ঐ ঔষধই খাবে। রোগী প্রথম ধাপে বুঝতেই পারেনা ডাক্তার তার সাথে প্রতারণা করেছে। রোগীদের সরল বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করে ভুয়া ডাঃ দেলোয়ার ও তার স্ত্রী লতা কৌশলে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাত্রাবাড়ী এলাকার এক রোগী জানান, দাতের ফিলিং করার জন্য সুবিন ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। প্রথম
ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন
ডাঃ সাবানা আক্তার লতা
বি.ডি.এ.এস (কোলকাতা) বিশেষ অভিজ্ঞ ওরাল এন্ড সার্জারী
সুবিন ডেন্টাল ক্লিনিক
১৪১২ মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড, কুদরত আলী বাজার, ঢাকা-১২৩৬
রোগী দেখার সময়:
সকাল: ৯টা থেকে ১টা বিকাল: ৪টা থেকে রাত ১০টা
মোবাঃ ০১৭১২-২৯০৪০৮ : ০১৯১৫-৭৫১৪২১
পর্যায়ে ভূয়া ডাক্তার দেলোয়ার আমাকে পর্যবেক্ষন করে বলেন আপনার অবস্থা বেশী ভালো না। আপনে আগামীকাল আসেন। আগামীকাল পিজি হাসপাতাল থেকে বড় ডাক্তার আসবে। খুব ভালো মানের ডাক্তার। আমি তার কথা মতো পরের দিন যাই। ক্লিনিকে যাওয়ার পরে ডাক্তার সাবানা আক্তার লতা আসেন, জাপানি কেমিকেল দিয়ে আমার দাত ফিলিং করেন। কিন্তু দুই মাসের পরে আমার দাতের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। ব্যাপারটি তখন আমার মনে খটকা লাগে। আমি অন্য ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে জানতে তারা প্রতারক চক্র। দুজনে স্বামী-স্ত্রী। লতা তার ভিজিডিং কার্ডে স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার উল্লেখ করেছেন তবে ওই হাসপাতালে সাবানা আক্তার লতা নামে কোন ডাক্তার খুজে পাওয়া যায়নি। সুত্র আরো জানায়, অসুস্থ মানুষদেরকে জিম্মি করে এদেশে এক শ্রেনীর ভুয়া চিকিৎসক চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। এতে অসুস্থ মানুষ আরও অসুস্থ হচ্ছে এবং প্রতারক চিকিৎসকরা আখের গোছাচ্ছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালত ও সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোঁকড় দিয়ে বের হয়ে পুণরায় এ হীন পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। ডাঃ মো দেলোয়ার হোসেন সুবিন ডেন্টাল ক্লিনিক নামে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও চিকিৎসার দিকে তার মনোযোগ নেই বিন্দু মাত্র। প্রতারনাই তার চিকিৎসার মূল মন্ত্র। ১৪১২ মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড, কুদরত আলী বাজার, ঢাকা-১২৩৬ তার
সুবিন ডেন্টাল ক্লিনিক। ভিজিটিং কার্ডে তিনি কোলকাতা থেকে বিডি এ এস পাশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ তিনি কোনদিন কোলকাতা যাননি। তাছাড়া তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছুই জানেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে দেখা যায় তিনি কোন স্কুল কলেজে পড়ালেখা করেন নাই। বাগেরহাট জেলায় মোেরলগঞ্জ থানা শহরে কোহিনুর মেডিকেল হল নামে একটি ঔষধের দোকানে কর্মচারী ছিলেন। তার পিতার নাম মোঃ আঃ হাকিম তালুকদার, স্থায়ী ঠিকানা গ্রামঃ বালিপাড়া, থানাঃ ইন্দুরকানী, জেলাঃ পিরোজপুর। এলাকাবাসি সবাই তাকে ঔষধের দোকানের একজন নিম্নতম কর্মচারী হিসেবে জানেন। তিনি কোলকাতার উচ্চ ডিগ্রী ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে যাচ্ছন। আরও অভিযোগ রয়েছে তিনি তার স্ত্রী ডা: সাবানা আক্তার লতাকে দিয়েও একই কায়দায় চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ডিপ্লোমাধারী স্ত্রীকে নামি দামি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ও আমাদের নিকট প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে তার সাথে তার মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি কোন সন্তোষজনক বক্তব্য দিতে পারেননি। অধিকন্ত তিনি তার শিক্ষাগত, চিকিৎসা সংক্রান্ত ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কোন প্রমান বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। চিকিৎসার নামে তার এধরনের অপকর্মের ব্যাপারে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত চলছে। আগামি সংখ্যায় চোখ রাখুন।



