Uncategorizedঅনুসন্ধানঅন্যান্যঅভিযানপ্রযুক্তিবিজ্ঞান

চীনের মানবাকৃতি রোবট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা– রোবটিক সভ্যতা কোন দিকে ধাবমান—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিকশুরুতে বিষয়টি ছিল প্রযুক্তির বিস্ময়।

কয়েকটি ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। সারিবদ্ধভাবে একদল মানুষ হাঁটছে, সিঁড়ি বেয়ে উঠছে, ভারী যন্ত্রাংশ বহন করছে, সহকর্মীর সঙ্গে করমর্দন করছে, আবার কেউ একজন বৃদ্ধকে ধরে রাস্তা পার করে দিচ্ছে। দূর থেকে দৃশ্যটি ছিল একেবারেই সাধারণ। কিন্তু ক্যামেরা যখন মুখের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন পৃথিবী যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারল না।

ওরা মানুষ নয়।

ওদের শরীরে রক্ত নেই, অথচ মানুষের মতো ভারসাম্য আছে। হৃদপিণ্ড নেই, অথচ বুকে মানুষের মতো ওঠানামার ছন্দ আছে। অনুভূতি নেই, অথচ সহানুভূতির অভিব্যক্তি অনুকরণ করার ক্ষমতা আছে। কোটি কোটি ট্রানজিস্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিউরাল নেটওয়ার্ক, উচ্চক্ষমতার প্রসেসর, ত্রিমাত্রিক ভিশন সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তগ্রহণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে তৈরি এই নতুন সত্তাগুলো যেন প্রযুক্তির হাতে গড়া মানুষেরই যান্ত্রিক প্রতিচ্ছবি।

এটি আর কল্পবিজ্ঞান নয়।

এটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ।

চীনের গবেষণাগারগুলোতে আজ এমন মানবসদৃশ রোবট তৈরি হচ্ছে, যারা শুধু মানুষের নির্দেশ পালন করে না; তারা চারপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে, বস্তু শনাক্ত করে, মানুষের কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে শেখে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত উন্নত করে এবং ক্রমাগত নিজেদের কর্মদক্ষতা বাড়ায়। শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, গুদাম, বৃদ্ধসেবা, দুর্যোগ উদ্ধার, এমনকি পারিবারিক সহকারী হিসেবেও তাদের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা অনেকের কাছে মানবসভ্যতার নতুন ভোর।

কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ এই অগ্রগতিকে শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তাদের আশঙ্কা—যে রাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবসদৃশ রোবট প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে, ভবিষ্যতের শিল্প, অর্থনীতি, তথ্যপ্রবাহ, এমনকি কৌশলগত ক্ষমতার বড় অংশও তার নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতা এখন আর কেবল বাজার দখলের নয়; এটি প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।

এ যেন এক অদ্ভুত সময়।

একদিকে মানবসভ্যতা এমন এক সহচর পেতে চলেছে, যে কখনো ক্লান্ত হবে না, অসুস্থ হবে না, বিষাক্ত গ্যাসে মারা যাবে না, আগুনে ভয় পাবে না, গভীর সমুদ্র কিংবা মহাকাশ অভিযানে দ্বিধা করবে না। অন্যদিকে একই প্রযুক্তি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের চরিত্রকেও আমূল বদলে দিতে পারে।

তাহলে কি মানুষ নিজের সবচেয়ে বড় সহকারী তৈরি করছে?

নাকি অজান্তেই এমন এক প্রযুক্তিগত শক্তির জন্ম দিচ্ছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাই একদিন মানবজাতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো সময়ের গর্ভে। তবে একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—মানবসদৃশ রোবটের গল্প আর কেবল প্রযুক্তির গল্প নয়; এটি বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি, সভ্যতার ভবিষ্যৎ এবং মানুষের নিজের অস্তিত্বকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার গল্প।এই ধরনের ভাষা পাঠককে একই সঙ্গে সাহিত্যিক রস, প্রযুক্তিগত বিস্ময় এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অনুভূতি দেবে, যা একটি উচ্চমানের ফিচার-প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button