
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের মুখে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হাসেম মেম্বারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রিফিউজি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৭টায় তিনি পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ত্রাণের চাল
সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে স্থানীয় কয়েকটি দোকানে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে— এমন অভিযোগে এলাকাবাসী আবুল হাসেম মেম্বারকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে চাল বহনকারী গাড়ির চালক চয়ন বড়ুয়া (৪০)-কেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ত্রাণের দুই বস্তা চাল এবং ঢাকা মেট্রো-গ-০৬-০০৩০ নম্বরের একটি জিপগাড়ি জব্দ করা হয়।
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. সাকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে ত্রাণের চাল বিক্রির সময় আবুল হাসেম মেম্বারকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে এবং গাড়িচালককে হেফাজতে নেয়। বিষয়টি তার দলের নেতাদেরও জানানো হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। জেলা পরিষদের দেওয়া ত্রাণের চাল ইতোমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। গাড়িচালকের ভাড়ার পারিশ্রমিক হিসেবে দুই বস্তা চাল দেওয়া হয়েছিল, বিক্রির জন্য নয়।



