অনুসন্ধানঅপরাধঅব্যাবস্থাপনাঅভিযানআইন-শৃঙ্খলাএক্সক্লুসিভদুর্নীতিপ্রতারনা

১৬ বছর একই কর্মস্থলে ডিবির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিস সহকারী (তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে একাধিকবার তার বদলির আদেশ জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ১৬ বছরে অন্তত ছয়বার মো. জাহাঙ্গীর আলমের বদলির আদেশ জারি করা হয়। তবে প্রতিবারই রহস্যজনকভাবে সেই আদেশ বাতিল হয়ে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে কর্মপরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি)-এর বদলির পেছনেও তার ভূমিকা ছিল।

এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি মো. জাহাঙ্গীর আলম নিজেও অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তার একাধিক বদলির আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি এবং তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (হাবিব) যখন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তখন তার সুপারিশে মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে হাবিবের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির ভয় দেখিয়ে কিংবা ভালো পদে পদায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি অর্থ আদায় করতেন। এমনকি সাবেক কমিশনার হাবিবের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বদলি বা পদায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার অন্যতম কৌশল বলে অভিযোগ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button