হোমিও শিক্ষক আশিক কুমারের আমলনামা জালিয়াতি করে বাগিয়েছেন নিয়োগ অধরা থেকে পেয়েছেন পদোন্নতিক্স তদন্ত হলেও আলোর মুখ দেখে না

স্টাফ রিপোর্টার
তিনি একটি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। অথচ নিয়োগ পরীক্ষায় হয়েছিলেন অকৃতকার্য। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিন্ন কলেজে চাকুরি দেখিয়ে কাঙ্খিত পদ বাগিয়ে নেন। ফ্যাসিস্ট আমলে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই অসাধ্যকে সাধন করেছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নিলেও কমেনি দু’নম্বরী কারবার। বরং অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে তার বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত কার্যক্রম আটকে রেখেছেন।
আলোচিত এ ব্যক্তি হলেন দিনাজপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আশিক কুমার রায়। তার চাকুরিতে নিয়োগ আর কর্মজীবন নিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, চারজন প্রভাষক নিয়োগের জন্য ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দিনাজপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উক্ত নিয়োগ পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের মধ্যে ০৬ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হন আশিক কুমার রায়। সর্বোপরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী বয়সসীমা নির্ধারণ ছিল অনূর্ধ ৩২ বছর। অথচ আবেদনকালে আশিক কুমারের বয়স ছিল ৩২ বছর ৪ মাস। এত অনিয়ম সত্তে¡ও তিনি দমে যাননি। ফ্যাসিস্টের একাধিক দোসরের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে লক্ষ্য অর্জনের বিকল্প পথ খুঁজে পান। এরই অংশ হিসেবে আশিক কুমারকে ঠাকুরগাঁও হোমিও কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরি দেখানো হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, ওই কলেজে একই দিনে (১৭-১০-০৯) নিয়োগপত্র ইস্যু, প্রত্যয়নপত্র এবং যোগদান দেখানো হয়েছে। উপরন্তু, এ সংক্রান্ত নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার বালাই নেই। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু তদন্ত করলে জালিয়াতি ও দু’নম্বরী অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, পুরো অপকর্মে মদদ দিয়েছিলেন ফ্যাসিস্ট আমলে হোমিও সেক্টরে গডফাদার খ্যাত ডা. দিলীপ কুমার রায় এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম। এ দুজনের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে আশিক কুমার জালিয়াতি আর দু’নম্বরীতে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তাদের সহযোগিতায় বদলি হয়ে আসেন দিনাজপুর হোমিওপ্যাথি কলেজে। এখানে নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এমনকি অফিসও নিয়মিত করেননি। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্তও হয়। কিন্তু সব বাধা ডিঙ্গিয়ে আশিক কুমার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বাগিয়ে নেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি।
এদিকে চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্টের দোসর-সহযোগীরা গা ঢাকা দিলেও আশিক কুমার রয়ে যান বহাল তবিয়তে। এ প্রেক্ষিতে তার নিয়োগে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. লুৎফা বেগম হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল বরাবর আবেদন করেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক মতামত প্রদানের জন্য ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদনটি পাঠানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গত বছরের ১৩ মে ডিসি অপিসে শুনানি হয়। কিন্ত্র এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হবার পরও আর কোনো অগ্রগতির তথ্য নেই। অন্যদিকে একই কলেজের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুস সালাম গত বছরের ডিসেম্বরে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ নিয়ে তদন্ত শেষে বিধি বহির্ভূতবাবে প্রতিবেদন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। সেটিও ফাইলবন্দি হয়ে আছে কয়েক মাস ধরে। সব মিলিয়ে আশিক কুমারের জালিয়াতি আর দুনম্বরী অবসানের উপায় নিয়ে ধন্ধে সংশ্লিষ্টরা।



