
রিপোর্টঃ সুইটি সিনহা
ওয়াসার মডস্ -৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানাকে ঘিরে নানারকম অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। নিজ গ্রাম ও কর্মস্থলে তার অনিয়ম ও দূর্নীতি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি।অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় ময়মনসিংহের পাগলার মাখল গ্রামের মৃত রোছমত আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ রানা।জীবিকার তাগিদে এক সময় রিক্সা চালালেও মিটার রিডার হিসেবে ওয়াসায় যুক্ত হয়ে পেয়েছেন আলাদিনের চেরাগরাতারাতি বনে গেছে কোটিপতি।

দূর্নীতির সম্রাট খ্যাত ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা আন্ডার বিলিং,মিটার টেম্পারিং ও অবৈধ পানির লাইন সংযোগ স্থাপনে সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পে সর্বাধিক সুযোগ ভোগের অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে তথ্য মেলে অদৃশ্য সুপার পাওয়ারের।বর্তমানে বেতন সর্বসাকুল্যে ৩৫ হাজারে সীমাবদ্ধ হলেও(পূর্বের বেতন ১০ হাজার টাকা মাত্র) অতিরিক্ত আয়ের উৎস ছাড়াই গড়ে তুলেছেন অবৈধভাবে এক আয়েশি জীবনযাপন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমান সম্পদের খোঁজ। নিজ দ্বায়িত্বরত এলাকা মোহম্মদপুরে রয়েছে নিজ ও স্ত্রীর নামে চারটি বাড়ি। তাছাড়া, ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় মোহাম্মদপুরে নূরজাহান রোডে এম/৮ নং হোল্ডিং এর দ্বিতল বাড়িটির মালিক হারুন অর রশিদ রানা। পৌনে ২ কাঠার এই বাড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫কোটি টাকা,এছাড়াও চাঁনমিয়া হাউজিং এর ২নাম্বার রোডের ১৭হোল্ডিং এর ফয়েজউদ্দিন টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলাতে ৬/A/সি ১৫০০ বর্গ ফুটের এর ফ্ল্যাটটির মালিকও হারুন রানা, যার বাজার মূল্য দেড় কোটি টাকার কাছে। টিক্কাপাড়াতে চিনিমিয়া রোডে ৭/এ/১৫ নং হোল্ডিং এর এই বাড়িটির মূল্য প্রায় ৮কোটি টাকা, এবং ঢাকা উদ্যানের ৩নং রোডের ৩৯ নং হোল্ডিং এর ৪র্থ তলা বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।ঢাকায় হারন রানার ৪টি বাড়ির তথ্য মিললেও স্থানীয় সূত্র বলছে তার রয়েছে প্রায় ৬-৭টি বাড়ি সহ একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে তার রয়েছে ALLION এর দামী গাড়ি সহ কয়েকটি প্রাইভেট কার।নিজে চড়তে ব্যবহার করেন ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৪৭৬৩ নাম্বারের গাড়িটি।হারুন রানাকে ঘিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাস্থ নিগুড়িয়ার মাখল গ্রামে রাজকীয় দ্বিতল প্রাসাদ গড়ে তুলেছেন তিনি।দূর্নীতির দায় এড়াতে নাকি অধিকাংশ সম্পদ এর মালিকানায় দিয়ে রেখেছেন স্ত্রী -সন্তানদের। নিজ গ্রামের বাড়িতে প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি এলাকাবাসীর। আয়নাল হক নামের পাগলা এলাকার এক ব্যক্তির আনিত অভিযোগ থেকে তথ্য মিলে গাজিপুরের শ্রীপুর ও মাওনা, ময়মনসিংহের ভালুকা, পাইথল এবং গফরগাঁওয়ে তার অঢেল সম্পদ রয়েছে।ময়মনসিংহের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও হারুন রানা কিভাবে বনে গেলো শত কোটি টাকার মালিক?

হারুন অর রশিদ বিল মাখল মৌজায় বিলাশবহুল ২তলা বাড়ি বানিয়েছেন- যার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকার উপরে। এছাড়াও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা পিয়ার আলী কলেজ সংলগ্ন ১টি টিন শেড বাড়ি, শ্রীপুর থানাধীন মাওনা হাসপাতাল রোড সংলগ্ন ১টি বাড়ি, মাওনা প্রশিকার মোড় সংলগ্ন ২টি টিনশেড বাড়ি, ভালুকা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী ও জমিদার বাড়িতে ২টি টিনশেড বাড়ি, ভালুকা কাশর মৌজায় বাউন্ডারী করা ৩ একর জমি, পাগলা থানাধীন গয়েশপুর বাজারে ১টি বাড়ি এবং রেলওয়ের জমি দখল করে অবৈধভাবে ২০টি দোকান নির্মাণ করেছেন বলেও তথ্য মিলে।তথ্য রয়েছে গফরগাঁও থানার পাইথল মৌজায় ১ একর জায়গার উপর একটি মুরগীর খামার আছে তার। পাইথল মৌজায় দাখিল মাদরাসা রোডে ১টি বাড়ি, গফরগাঁও উপজেলা শিলাশী মৌজায় ৩/৪ শতাংশ জমি আছে যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লক্ষ টাকা।
এখানেই শেষ নয়! হারুন অর রশিদ তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের বিল মাখল মৌজায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নিজের এবং তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়দের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার চাষী জমি কিনেছেন বলেও জানা যায়। যার মধ্যে আবুল হাসেম ও সুরুজ গংয়ের কাছ থেকে (দাগ নম্বর ৫৩২০) ৪ কাঠা জমি- মূল্য ২ লাখ টাকা। মোতালেব গংয়ের কাছ থেকে (দাগ নম্বর ৫২৮৪) দেড় লাখ টাকায় ৪ কাঠা, আবুল হাসেম গংয়ের (দাগ নম্বর ৫২৮০) জমিটি দেড় লাখ টাকায় ৩ কাঠা, একই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫৫৩৮ ও ৫৫৩৯ দাগে ২ লাখ টাকা দিয়ে আরও ৪ কাঠা, মিরাজ মেম্বার গংয়ের (দাগ নং ৫৫৪০)জমিটি দেড় লাখে ২.১/২ কাঠা, আঃ রহমান গংয়ের কাছ থেকে (দাগ নং- ৫২১০, ৫২১২) ৪ লাখ টাকায় ৮ কাঠা, আঃ হেকিম গংয়ের কাছ থেকে ৪ দাগে (৫১৫৪, ৫১৬৪, ৫২৪৩, ৫২৪১) ৩ লাখ টাকা দিয়ে ৬ কাঠা, মোতালেব গংয়ের কাছ থেকে তিন দাগে (নং-৫২০৬, ৫২০৭, ৫১৬৫) ৪ লাখ টাকা দিয়ে ৮ কাঠা, নাজিম উদ্দিন গংয়ের কাছ থেকে তিন দাগে (৫১৬৩, ৫২০৯, ৫২৪২) ৩.১/২ কাঠা- যার মূল্য পৌনে ২ লাখ টাকা এবং একই মৌজায় ৫২৩৯, ৫২২৫ নং দাগে ওমর আলী গংয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দিয়ে ২ কাঠা, নূরুল ইসলাম গংয়ের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ২ কাঠা (দাগ নং- ৫২৩১), আঃ খালেক গংয়ের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ২ কাঠা (দাগ নং-৫২৩০), ৫টি দাগে (৫২৭৬, ৫৯২৪, ৫২২৬, ৫২২৭, ৫২২৮) কালাম হাফেজ গংয়ের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকায় ৬ কাঠা এবং আবু সাঈদ গংয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে (নিওয়ারী মৌজা, দাগ নং- ৫৯০) ১ কাঠা জায়গা কিনেছেন। এছাড়াও একই মৌজায় মোট ১১ দাগে (২২০, ২২১, ৫৮৩, ৫৮৫, ৫৮৭, ৫৮৮, ৫৮৯, ৫৯১, ৫৯২, ৫৯৩, ৫৭৭) হাসমত গংয়ের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকায় ১২ কাঠা জায়গা কিনেছেন হারুন।
ময়মনসিংহের বিল মাখল মৌজায় লুতফর ঢালী, বারেক ঢালী, তোফাজ্জল ঢালী ও কামাল এর নিকট থেকে ৫ লাখ টাকায় ১ একর, ইব্রাহিম খানের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা কাঠা দরে ৪ একর, শুকুর মাহমুদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় ১ একর, আঃ রশিদ ও ইসমাইল এর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা কাঠা দরে ২ একর, রগু বাড়ির আঃ মোতালেব, আঃ কাশেম, হাফিজ উদ্দিন এর নিকট থেকে ৯ লাখ টাকায় দেড় একর, মোঃ আঃ রহমান, আলাউদ্দিন, মুর্শিদ, হেলাল উদ্দিন এর নিকট থেকে ১৬ লাখ টাকায় ১ একর জমি কিনেছেন হারুন অর রশিদ। এছাড়াও একই মৌজা এলাকায় কাজিম উদ্দিন, আলিম উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন ও খোকা মিয়ার নিকট থেকে ২০ লাখ টাকায় ২ একর, আঃ হেকিম, আঃ বাতেন, ফারুক মিয়া ও হাতেম আলীর নিকট থেকে ৮ লাখ টাকায় ১ একর, বাড়ই বাড়ির রুস্তম আলী, আঃ কালাম এর নিকট থেকে ৩ লাখ টাকায় ৪ কাঠা, গুজাবাড়ির আবুল কালাম ও হাফেজ এর নিকট থেকে ২ লাখ টাকা কাঠা দরে ৬ কাঠা, ছফির উদ্দিন, নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় ১০ কাঠা এবং উমর আলী ও আঃ বারেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ৫ কাঠা জায়গা কিনেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
স্থানীয় ভাবে অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রতারণা করে সামান্য টাকার বিনিময়ে মরহুম আবু তাহেরের স্ত্রী-পুত্র-মেয়ের কাছ থেকে বাড়ি-ভিটাসহ কবরস্থান লিখে নিয়েছেন হারুন। একইভাবে নুরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, সামছুদ্দিনদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছেন তিনি। অভিযোগ আছে, হারুনের বিরুদ্ধে কেউ কোন লোক কথা বললেই তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হতো বলে জানান এলাকাবাসি।হারুন রানার এই সুপার পাওয়ার এর অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য ততকালীন ১১তম সংসদ নির্বাচনের এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এর আস্থাভাজন হিসেবে সুপরিচিত হয়ে থানা পুলিশকে রেখেছিলো হারুন নিজের কব্জায়। ভুক্তোভোগীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকেই উল্টো হেনস্থা হতে হতো নানাভাবে।হুমকি,ভয়ভীতি ও অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদের দাপটে অনেকেই হয়ে পড়েছিলো দিশেহারা।অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নিজ এলাকা সহ ঢাকাতে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফাহমী গোলন্দাজ এর সহযোগিতায় রাতারাতি দেওয়া হতো গায়েবী মামলা। জনশ্রুতি রয়েছে অতি দম্ভে হারুন সবসময় বলতেন- কেউ আমার একটা পশমও ছিড়তে পারবে না। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে ফেলবো।
ঢাকায় হারুনের প্রতিটা বাড়িই বিলাশবহুল প্রাসাদতুল্য। আধুনিকতার কোন কমতি নেই তার প্রাসাদে। হারুনের স্ত্রী-কন্যার চলাফেরায় ও বেশ চমক লক্ষ্য করা যায়।ধারনা করা হয় বিলাসিতার জন্য তাদের রয়েছে প্রায় শত ভরি স্বর্ন। তার নিজ নামে, স্ত্রী-ছেলে-মেয়েদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকা ডিপোজিট আছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। এক কথায় শূন্য থেকে কোটিপতি ঢাকা ওয়াসার সাবেক মিটার রিডার বর্তমানে রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ ওরফে রানার উত্থান যেন আলাদীনের চেরাগের দৈত্যের গল্পকেও হার মানিয়েছে। তার আয়েশী জীবন হার মানায় কোন মন্ত্রী, শিল্পপতির জীবন যাপনকেও।আর সুপার পাওয়ারের দৃষ্টান্ত হিসেবে লক্ষ্যযোগ্য
দফায় দফায় নিজ এলাকার বাসিন্দার আনিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন, কিন্তু টাকার তৈরী গ্রেট ওয়াল ভেদ করে দুদকের চোখেও জানো পড়ছে না হারুনের বিত্ত- বৈভব। বারবার দায়মুক্তি পেয়ে হারন গোটা জাতিকে দেখিয়েছে বৃদ্ধাঙ্গুলি। এলাকা বাসির দাবি হারুন শুধু নিজের শক্ত অবস্থানকেই বারবার ফুটিয়ে তুলছে না, তিনি প্রমান করছেন টাকার জোরে সব হয়।একই সাথে তাদের প্রশ্ন তাহলে কি দুদকের তদন্ত ও নিরপেক্ষ নয়??অপর দিকে
দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, প্রথম দফায় ২২/৩/২০১৬ সালে উপপরিচালক মো: মঞ্জুর মোর্শেদ(অনু: ও তদন্ত-১) স্বাক্ষরিত এক পত্রে(স্মারক নং-দুদক/অনু: ও তদন্ত-১/অনু:৩২৬/ঢাকা/২০১৪) বলা হয়-”নিম্ন বর্ণিত ”কর্মকর্তার” বিরুদ্ধে বিষয়ে উল্লিখিত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমানিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক নথিভূক্তির মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হলো”। বিষয় ছিল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
একই সাথে তার স্ত্রী মোছা: শাহনাজ বেগম কে একই অভিযোগে সমভাবে নথিভূক্তির মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়েছে((স্মারক নং-দুদক/অনু: ও তদন্ত-১/অনু:৭৭/ঢাকা/২০১৫)১০/৩/২০১৬)।
এখানে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে-দুর্নীতি দমন কমিশন এর মত একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক পত্রে ওয়াসার একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারিকে ”কর্মকর্তা” সম্বধোন করা হয়েছে।
অন্যদিকে,দ্বিতীয় দফায় ২৭/১০/২০২০ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন এর সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত স্বাক্ষরিত এক পত্রে(স্বারক নং-০০.০১.০০০০.৬০০.৭০.১০৩.২০.১০৭) বলা হয়-”নিম্ন বর্ণিত ”কর্মচারির বিরুদ্ধে আনীত বিষয়ে উল্লিখিত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমানিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তা পরিসমাপ্তি করা হয়েছে” ।
দুর্নীতি দমন কমিশন হারুন অর রশিদ রানা-কে দু’বার দায়মুক্তি দিলেও তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ও অনিয়ম দুর্নীতি পুনরায় তদন্ত করার জন্যে রানার গ্রামবাসির পাশাপাশি ওয়াসার কর্মচারিদের পক্ষ থেকে কমিশনে একাধিক আবেদন করা হলেও হারুন নামা এখন ও আগের অবস্থায়। এর মাঝেই পেয়েছেন হারুন রানা পদোন্নতি।এককথায় হারুন রানা একবিংশ শতাব্দীর নভ্য সম্রাট যার অনিয়মে তৈরী নিজস্ব জগতে চলে শুধু তারই রায়।সম্প্রতি ডিজিএফআই সদরদপ্তরে হারুনের নামে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন তার এলাকার বাসিন্দা বলেও জানা যায়।সে অভিযোগেও উল্লেখ আছে হারুন রানার অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্যের অকল্পনীয় উত্থান ।
রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ৩ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত আছেন। পূর্বে যে সকল জোনে ছিলেন- সেখানেও ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন বলে তথ্য মিলে।যেসকল আমলারা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় গড়ে তুলেছেন বিত্ত, বৈভব হারুন রানা তাদের মধ্যে অন্যতম।ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ ব্যক্তিগত নিয়োগকৃত একাধিক ‘ডুপলি’ দিয়ে সাইট পরিচালনা করা,সহ হাজারো অনিয়মে জড়িত এই হারুন রানা। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এক আদেশের মাধ্যমে বহিরাগত নিয়োগ নিষিদ্ধ করে (স্মারক নং রা/৮২০২ প্র:রা:ক:-৫/৭/২০১৮ইং) আদেশ দেওয়া হলেও হারুন যেন সকল আইনের উর্ধ্বে। কাগজে কলমে ৩৫ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী হলেও তার ডুপলি জাকির হোসেনকে তিনি প্রদান করেন ২৫ হাজার টাকা এবং তার ড্রাইভারের বেতন ২৫ হাজার টাকা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে হারুনের টাকার জোর আর ক্ষমতার দাপটে সবকিছু ম্যানেজ করা ছিলো মাত্র সেকেন্ড এর ব্যাপার।এলাকাবাসী বিশ্বাস করে আওয়ামী ছত্রছায়ায় টিকে থাকা হারুনের অনিয়মের সাম্রাজ্য হয়তো এখন নড়বে।অনেকটা দতাশা নিয়েই তারা হারুনের বিরুদ্ধে পুনঃতদন্ত করতে আহ্বান জানান দুদকের কাছে। তথ্য রয়েছে ছাত্রআন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে হারুন রানা মোহাম্মদপুরের বাসা ছেড়ে রয়েছেন অনেকটা আত্মগোপনে।ভাড়াটিয়াদের দেওয়া তথ্য মতে রয়েছে ছাত্রহত্যা মামলাতেও নাম।পুনঃ তদন্ত সহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদের বিবরণী যাচাই করতে তার পরিবারের প্রত্যেককেই তদন্তের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন সহ ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা।



