
এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম
সাংবাদিক না হয়েও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি জনতা গঠন করিয়া অন্যের সম্পত্তি ভোগ দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম আজাদী গ্রুপের মালিকানাধীন কোহিনূর প্রেসের কর্মচারী আখতার কামালের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আখতার কামাল পেশাদার ভূমিদস্যু ও প্রতারক হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। আজাদী পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে জাল দলিল সৃজন করে অন্যের জমি জবরদখল ও গ্রাস করা তার পেশা। আখতার কামাল আনোয়ারা উপজেলার বটতলীর রুস্তম হাট এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগকারী আনোয়ারুল আজিম আনোয়ারা উপজেলার ৬ নং বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ গ্রামের আবদুস সুকরের সন্তান। একুশে পদকপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক এম এ মালেক বরাবরে আনোয়ারুল আজিমের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন যুগ ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে বটতলী সহ আশেপাশের অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের মৌরসি সম্পত্তির জাল দলিল সৃজন করে তা অন্যত্র বিক্রি করে বটতলীর রুস্তম হাটে বিস্তর সম্পদ গড়ে তুলেছে ভূমিদস্যু আখতার কামাল গং। অভিযোগে আরো জানা যায়, বটতলী রুস্তম হাটে আনোয়ারুল আজিমের মা মমতাজ বেগম এর মালিকানাধীন ও পিতা আবদুস সুকরের অর্থায়নে অর্জিত অটো রাইসমিল সহ অনেক মূল্যবান সম্পদ ও সম্পত্তি সুদীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পেশিশক্তির প্রভাবে বেআইনি জনতা গঠন করিয়া ত্রাস সৃষ্টি করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। এসব বিষয়ে অভিযোগকারী আনোয়ারুল আজিম বলেন, আমাদের বৈধ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে আদালত ও থানায় দেনদরবার চালিয়ে আসছি। আনোয়ারুল আজিম বলেন কোর্ট ও থানায় দেনদরবারে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে বর্তমানে আমি দেউলিয়া। তিনি আরো বলেন, আখতার কামাল সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থানা ও বিভিন্ন সংস্থায় ফোন করে আমাকে হয়রানি করে আসছে এবং তিনি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রেখেছে। আজাদীর সম্পাদক ও প্রকাশক এম এ মালেকের খলিফাপট্টির বাগানবাড়িতে সরাসরি অভিযোগটি দাখিল করেন আনোয়ারুল আজিম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। অভিযোগের বিষয়ে আখতার কামালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মী সিহাব উদ্দিন বলেন, আখতার কামালের এহেন কর্মকান্ড ও প্রতারণা ডিজিটাল হয়রানির শামিল। এ ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত ফোনালাপে বিভ্রান্তি তৈরি করে অবৈধ সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করে। অভিযোগ দাখিলের সময় একুশে পদকপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক এম এ মালেক এক মন্তব্যে বলেন, সাংবাদিক না হয়েও আজাদী পত্রিকা ও কোহিনূর প্রেসের কোনো কর্মচারী সাংবাদিক পরিচয়ে অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর হবো।



