ফুটপাত দখলের নেপথ্যে কারা? হজ ক্যাম্প–আশকোনায় হকারের দাপট, বেপরোয়া রিকশায় জননিরাপত্তা প্রশ্নে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে হজ ক্যাম্প থেকে আশকোনা বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন যেন দখল, বিশৃঙ্খলা আর অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের এক ব্যস্ত করিডোর। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো মানুষ চলাচল করলেও পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতের বড় অংশ দখল হয়ে থাকায় নিরাপদে হাঁটার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতের ওপর সারি সারি ভাসমান দোকান, অস্থায়ী পসরা, খাবারের দোকান ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। কোথাও আবার ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের একটি অংশও পণ্য রাখা কিংবা যানবাহন দাঁড় করানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে ব্যস্ত মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।



ফুটপাত কার দখলে—উঠছে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের ওপর এ ধরনের দখলদারি চলে আসছে। নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় একবার দখল হওয়া জায়গা ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ পথচারীরা তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক চলাচলের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত দখলের বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন পথচারীর দাবি, দখলমুক্ত করার কথা বললে হকারদের একটি অংশ একত্রিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। কেউ কেউ হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত কোনো পক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।



ফুটপাত দখলের সঙ্গে বাড়ছে অপরাধের শঙ্কা
পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দোকান, রিকশা, মানুষের ভিড় ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কোথাও কোথাও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ছিনতাই, পকেটমারি, প্রতারণা, হয়রানি কিংবা অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় আগত অপরিচিত দেশি-বিদেশি যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার ‘দাপটে’ সড়কে বিশৃঙ্খলা
ফুটপাত দখলের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। পথচারীদের ভাষ্য, অনেক সময় এসব যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে।
ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকা পথচারীদের যখন মূল সড়কে নামতে হয়, তখন তাদের পাশ দিয়েই দ্রুতগতিতে রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
একাধিক পথচারী প্রশ্ন তুলেছেন—“ফুটপাত দখল হলে মানুষ হাঁটবে কোথায়? আর মূল সড়ক যদি বেপরোয়া যানবাহনের দখলে থাকে, তাহলে নিরাপদে চলাচল করবে কীভাবে?”
বিদেশি যাত্রীর সামনে নগর ব্যবস্থাপনার বিব্রতকর চিত্র
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় হজ ক্যাম্প–আশকোনা এলাকা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর একটি। বিদেশি পর্যটক, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য যাত্রীদের একটি অংশ এই এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন।
তাদের সামনে ফুটপাত দখল, অনিয়ন্ত্রিত হকার, যানজট ও বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত রিকশার এমন পরিস্থিতি দেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
‘দখলমুক্ত ফুটপাত চাই, নিরাপদ সড়ক চাই’
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দাবি, হজ ক্যাম্প থেকে আশকোনা বাজার পর্যন্ত ফুটপাতের পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পথচারীরা আরও দাবি জানিয়েছেন—ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
তাদের প্রশ্ন, হজ ক্যাম্প–আশকোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল যদি দীর্ঘদিন চলতেই থাকে, তাহলে এর দায় নেবে কে?
জনসাধারণের প্রত্যাশা—দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ফুটপাত ও সড়ককে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
পথচারীদের একটাই দাবি—দখলমুক্ত ফুটপাত, নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং নিরাপদ হজ ক্যাম্প–আশকোনা সড়ক।



