
স্টাফ রিপোর্টার
ভূমিদস্যু শাহিনুর বেগম-ছেলে ফরহাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি সহ বউ-জামাই চানাচুর ফ্যাক্টরী দখলের অভিযোগ, লিগ্যাল এইড-এ মামলা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী “বউ-জামাই চানাচুর ফ্যাক্টরী”র মালিক আবুল কালাম মুন্সী (২-১২-২৫ ইং) ইন্তেকাল করেন, ইন্তেকালের সময় তিনি দুইটি পরিবার এবং ৬টি ছেলে-মেয়ে রেখে যান। ১ম স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৪৮), আবু ছালেহ ফরহাদ (২৯), ফজিলাতুন্নেছা সালেহা (২৭), আবু সাঈদ খুদরী (১৭), তাদের সংসারে (১ মেয়ে ২ ছেলে জন্মগ্রহণ করেন)। প্রথম স্ত্রীকে, সৈয়দপুর জিএনসি আ-আমিন নগর, ৩নং গলি, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় ৬ শতাংশ জমিতে ৭-তলা ভবনে রেখে যান। দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা আক্তার (২৮), মো: ফয়জুল করীম মুন্সি (৯), মোসা: আয়েশা সিদ্দিকা (৭), মো: আবুল খায়ের মুন্সি (৫), তাদের সংসারেও (১ মেয়ে ২ ছেলে জন্মগ্রহণ করেন)। তাকে তার হাজবেন্ড রেখে যান ৩ শতাংশ জমিতে ৩ তলা ভবনে, ভূঁইগড় সিকদার পাম্প সংলগ্ন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায়। দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানার সাথে মরহুম আবুল কালাম মুন্সির পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মরহুম আবুল কালাম মুন্সী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, ১১ বৎসর পূর্বে- অর্থাৎ ২০১৫ ইং সালে।


“অপরাধ বিচিত্রার” সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারী আফসানা আক্তার বলেন, আমার হাজবেন্ড মরহুম আবুল কালাম মুন্সির ইন্তেকালের পর থেকেই, বড় সতীন শাহিনুর বেগম ও তাঁর বড় ছেলে আবু সালেহ ফরহাদ কর্তৃক বিভিন্ন সময় অত্যাচার, নির্যাতন, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল সহ প্রাণনাশের হুমকি ধামকি প্রদান করেন। এবং হাজবেন্ডের রেখে যাওয়া “বউ-জামাই” চানাচুর ফ্যাক্টরী দখল, পূবালী ব্যাংকে সহ বিভিন্ন ব্যাংকে রেখে যাওয়া টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন। আনুমান ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি তাদের নামে রেজিস্ট্রির পায়তারা করেন, আমি এবং আমার ৩ সন্তানকে বাদ দিয়ে গোপনে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ করে, দুইটি জমি রেকর্ড করে নেন (তরতরিয়া মৌজার কান্দিরপার (৬ শতাংশ জমি) আর সৈয়দ সৈয়দপুর মৌজার, ম-খন্ড, (১৩ শতাংশ জমি) আমার নসতীন সহ তার ছেলে-মেয়েদের নামে। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগ দিলে, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি ভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, মামলাটি চলমান।
আমার হাজবেন্ড ২১ সালে আমার জন্য বসতঘর রেখে যাওয়া বাড়িটিও জাল জালিয়াতি করে সতীনের বড় ছেলে ফরহাদের নামে রেজিস্ট্রি করেন (জানুয়ারি মাসের ২৬ সালে)। এদিকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশির মাধ্যমে আমাদেরকে মাসিক খোরাকি বাবদ প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে টাকা দিত সতীন-ফরহাদের পক্ষ থেকে, ৫ মাস ধরে সে টাকাও দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ভূমিধস্যু শাহিনুর বেগম এবং আবু সালেহ ফরহাদ।
ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার বলেন, প্রতিমাসের খোরাকি টাকা চাইতে গেলে আবু সালেহ ফরহাদ এবং তার মা শাহিনুর বেগম অকাত্য ভাষায় গালাগালি করেন, ঐ সমস্ত ভাষাগুলি আমার মুখে শোভা পায় না। আমাকে বলেন তুই আবুল কালাম মুন্সির কখনোই স্ত্রী ছিলিনা, তোকে মানি না, তুই কিসের স্ত্রী? তুই ছিলি আবুল কালাম মুন্সির দেহরক্ষী! অথচ আমি তার একজন বৈবাহিক স্ত্রী ছিলাম, আমার সতীন আমাদের বিবাহ মেনে নিয়েছিল তৎকালীন সময়। আমাকে মানে না- অথচ বলেন, তোর তিনটি সন্তান কালাম মুন্সির ছেলে-মেয়ে, তাদেরকে আমি মানি! এভাবেই শাহিনুর বেগম কুরুচিপূর্ণ গালাগাল করেন এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রধান করেন।
আমি আমার সন্তান এবং পিতা-মাতাকে নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতেছি, কখন জানি আমাকে এবং আমার সন্তানকে গুম করেন ও মেরে ফেলেন। আমাকে বিভিন্ন ফকির দিয়ে প্রতি সপ্তায় একটা করে বান মারেন- যাতে আমি মারা যাই, যার কারনে আমি প্রতিটা মুহূর্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার অবস্থায় সম্মুখীন হই। প্রতি সপ্তাহে মারা বানগুলি ফকির দিয়ে কাটাতে হয়, এরকম করে করে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন নিয়ে ছেলে সন্তান সহ আল্লাহর রহমতে এই পর্যন্ত বেঁচে আছি। ২৪ ঘন্টা ঘুমাতে পারিনা, ডাক্তারের পরামর্শে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে হয়। আমার সতীন শাহিনুর বেগম, আমার হাজবেন্ডকে বাসায় আমার কাছে এসে একটা দিন-রাত ঘুমাতে দেয়নি, সতীনের ভয়তে দিনের বেলায় আমার বাড়িতে এসে ২ ঘন্টা থেকে আবার চলে যেত! এরকমই অত্যাচার নির্যাতন ও কষ্টের বিনিময় আমার জীবনটা পার করে আসছি, এভাবে একটা নারী ছোট ছোট ৩ সন্তানকে নিয়ে কিভাবে চলতে পারে?
আমাদের বিবাহের দের বছর পর আমার বড় ছেলে মো: ফয়জুল করিম মুন্সীর জন্মের ৫ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিবাহের বিষয়টা হাসবেন্ড সতীনকে জানালে, আমাদের বিবাহ মেনে নিয়ে আমার নবজাতক শিশু ফয়জুল করিমকে দেখতে আসেন। প্রথমে দ্বিতীয় বিবাহ মেনে নিলেও কিন্তু পরবর্তীতে, ব্যক্তিগত আক্রোশে আমার স্বামীকে এবং আমাকে বিভিন্ন সময় অত্যাচার নির্যাতন করতো এবং আমার বাড়িতে হাজবেন্ডকে আসতে বাধা প্রদান করতেন। হঠাৎ করে একদিন রাতে আমার বাড়িতে এসেই হাসবেন্ডের কোলে থাকা আমার বড় ছেলে শিশু ফয়জুল করিমকে থাপ্পড় মেরে, হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেঁপে ধরেন। চিৎকার শুনে আমি আসলে আমাকেও মারধর করেন, আমার হাজবেন্ড আমাদেরকে বাঁচাতে সতীন শাহিনুরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে, তাদের মধ্যে কথার কাটাকাটির এক পর্যায় হাসবেন্ডকে নারায়ণগঞ্জ সদরে তাদের বাসায় নিয়ে যান। আমার হাজবেন্ড সতীন শাহিনুর বেগমের অত্যাচার আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে, একটু শান্তিতে বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য আমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিবাহ করেন- এমনটাই আমার হাজবেন্ড বিবাহের পরে কেঁদে কেঁদে আমাকে বলেছেন।
নানান ভাবে চাপ প্রয়োগ করে, শাহিনুর বেগম এবং বড় ছেলে আবু সালেহ ফরহাদ, আমাকে বিভিন্ন সময় সংসার ছেড়ে চলে যেতে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। হাজবেন্ডের সংসার থেকে চলে না গেলে আমার বাচ্চা ফয়জুল করীমকে এবং আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। একই সাথে আমার হাজবেন্ডকে হুমকি প্রদান করে বলেন, তোর ছোট বউ আফসানা আখতারকে যদি তালাক না দাও তাহলে তোকেও জানে মেরে ফেলবো। এভাবেই বছরের পর বছর আমার সংসারে অশান্তি আর অশান্তি, যার কোন সীমা নেই। আমার মেয়ে মোসা: আয়েশা সিদ্দিকা ২০২০ ইং সালে জন্ম হওয়ায় অশান্তি আরো বেড়ে যায়। আমাকে বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে ইচ্ছামতন অসভ্য ভাষায় গালাগালি করা নিত্য দিনের রুটিন ছিল শাহিনুর বেগমের। শুধু তাই নয়, আমার হাসবেন্ডকে এ পর্যন্ত বহুবার গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছেন, বড় সতীন আর ছেলে মেয়েরা- এর সাক্ষী এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির দায়িত্বশীলরা। ২০২১ সালে আমার ছোট ছেলে আবুল খায়ের জন্ম গ্রহণ করলে হাসবেন্ড সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে-বাচ্চাদের ভাড়া বাসায় না রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার, ভুঁইগড় শিকদার পাম্পের পিছনে আবু বক্কর মসজিদ-গ্যাস লাইন রোডে, ৪ নং বিবাদী মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে ৩ শতাংশ ভূঁইগড় মৌজায় জমি (৬৭ লক্ষ) টাকায় ক্রয় করেন এবং ৩ তলা ভবন কমপ্লিট করে, ২০২১ ইং সাল থেকে (গ্যাস, পানির, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে) আমি আমার ৩ বাচ্চাদের সহ বসবাস করে আসছি।
আবুল কালাম মুন্সী ইন্তেকালের মূল ঘটনা:
শাহিনুর বেগম এবং ছেলে আবু সালেহ ফরহাদের অত্যাচারে মাঝে মধ্যে হাজবেন্ডের শরীরে দাগ কেটে থাকতো। (২-১২-২৫ ইং) সালে আমার বাসা থেকে আমার হাসবেন্ড আবুল কালাম মুন্সী সুস্থ মানুষ বেরিয়ে বড় সতীনের বাসায় চলে যায়, হঠাৎ করে লোকমুখে শুনি মঙ্গলবার আসরের সময় নারায়ণগঞ্জের গোপচর বড় সতীনের বাসায় মরহুম আবুল কালাম মুন্সী ইন্তেকাল করেন। মারা গেছেন আসরের সময় কিন্তু আমরা শুনেছি রাত ৮ টায়, লাশ দেখতে গেলে আমাদেরকে দেখতে বাধা প্রদান করায় আমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে, আমার হাজবেন্ডকে ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই মর্মে আমরা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ করলে, থানা কর্তৃপক্ষ তাদের ইশারায় অভিযোগটি আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে, জানাজা শেষ করে তাঁর গ্রামে বাড়ি চাঁদপুরে দাফন করা হয় (৩-১২-২৫ ইং) বুধবার সকাল ৯ ঘটিকার সময়।
আমার হাজবেন্ড ইন্তেকালের পরে আমাদের নেমে আসে নিঃস্ব জীবনের কঠিন অবস্থা, ইনকাম করার একমাত্র আমার হাজবেন্ড ছিলেন, তিনি ইন্তেকালের পরে ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে মানবেতার জীবন পার করতেছি। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার, দৈনন্দিন খরচ সহ তাদের মুখে একমুঠো ভাত কিভাবে দিবো? সেই টাকা তো আমার কাছে নেই। বেশিরভাগ আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার কর্জ করতে করতে কয়েক লক্ষ টাকা ঋণী হয়েছি। এভাবে আর কতদিন চলবো? কত মাস চলতে পারব? এই বিষয় নিয়ে চিন্তা টেনশনে আমি ব্যক্তিগত মানসিক রোগী হয়েছি, খাওয়া নেই ঘুম, নেই- ২৪ ঘন্টার ভিতরে এক ঘন্টা সময়ও ঘুমাতে পারি না,এখন শুধু আমাদেরকে পাগল বানিয়ে ঘাড় ধরে বের করে দিলেই তারা সাকসেসফুল হবে, কিন্তু আমাদের সাথে আল্লাহ আছে এবং এলাকার জনগণ আছে, শুধু এলাকার জনগণের জন্যই আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারছেন না, তারপরও বহুবার চেষ্টা করেছেন আমাদেরকে বের করার জন্য।
সতীনের বড় ছেলে আবু সালেহ ফরহাদ জাল জালিয়াতি করে ভূয়া সনদ বের করে, জমি লিখে নিলে লোক মারফত আমরা খবর পেলে সরাসরি সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করলে, সিটি কর্পোরেশন ফরহাদ সহ সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, (প্রকাশ থাকে যে, আমি ওই মামলার বাদীও নই এবং আসামীও নই)। তারপরও আমার সতীন শাহিনুর বেগমের মোটা অংকের খেয়ে প্রভাবিত হয়ে, আমাকে বিভিন্ন সময়ে মামলার আইও এসআই রমজান হোসেন (০১৭০১৯৩৬৮৯৫) বিরক্ত করেন এবং নিয়মিত রীতি মতন ভয়-ভীতি দেখান, এমনকি আমাকে গ্রেফতার করে জেলের ভিতরে ঢোকিয়ে রাখার হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আগামী পর্বে আসছে… চোখ রাখুন অপরাধ বিচিত্রার পাতায়। অপরদিকে সতীনের অত্যাচার, নির্যাতন আর প্রতারণার থেকে বাঁচার জন্য এবং সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইনমন্ত্রী ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বরাবর একটি আবেদন প্রেরণ করি, যাহার অনুলিপি নিম্নরুপ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে- ১) সচিব, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়-ঢাকা, ২। সচিব, মাননীয় আইন মন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়-ঢাকা, ৩। অ্যাড. আবদুল্লাহ আল- আমিন, মাননীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন, ৪। অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মাননীয় প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন,
৫। বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, (ডিএমপি)-ঢাকা, ৬। জেলাপ্রশাসক (ডিসি), নারায়ণগঞ্জ, ৭। পুলিশ সুপার (এসপি), নারায়ণগঞ্জ, ৮। অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ফতুল্লা থানা, নারায়ণগঞ্জ,
৯। এস এম মোরশেদ, সম্পাদক: অপরাধ বিচিত্রা সহ সকল গণমাধ্যম।



