জীবনযাপন

গর্ভাবস্থার শেষ মাসে ঘি খেলে কি স্বাভাবিক প্রসব সহজ হয়?

জীবনযাপন ডেস্ক: গর্ভাবস্থা একজন নারীর শরীরে নানাভাবে পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে নারীর খাদ্যাভ্যাস উন্নত করতে হয় এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রোটিন ও খনিজ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা নিয়ে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভ্রান্ত থাকেন, কারণ গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেক প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। এমনই একটি ধারণা হলো, গর্ভাবস্থার নবম মাসে ঘি খেলে তা স্বাভাবিক প্রসবে সাহায্য করতে পারে। এটি কি একটি ভুল বিশ্বাস নাকি বাস্তবতা?

গর্ভাবস্থায় ঘি কি ভালো না খারাপ?

গর্ভবতী নারীরা ঘি খেতে পারেন। কিন্তু এর প্রস্তাবিত পরিমাণ কত? গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ঘি খাওয়ার প্রস্তাবিত পরিমাণ হলো- তিনটি ত্রৈমাসিক জুড়ে রান্নায় ১ থেকে ২ চা চামচ। এক চা চামচ ঘি খাবারে প্রায় ৪৪ কিলোক্যালরি যোগ করে।

যদি গর্ভবতী মায়েরা ভিটামিন, খনিজ এবং শর্করা, ফল, শাক-সবজি এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানে ভরপুর একটি সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন, তাহলে তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ঘি যোগ করার কোনো বিশেষ প্রয়োজন নেই। এর কারণ হলো, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ওজন বাড়তে পারে এবং গর্ভাবস্থাকে জটিল করে তুলতে পারে। ওজন যত বাড়বে, তা কমানোও তত কঠিন হবে। আপনি যদি খুব বেশি চর্বি গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে গর্ভাবস্থায় জমে থাকা চর্বি ঝরানো আরও কঠিন হতে পারে। স্থূলতা আপনার স্বাভাবিক প্রসব ও ডেলিভারির সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে চর্বি না ঝরিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘি গ্রহণ করলে পেটের অংশে আরও বেশি চর্বি জমতে পারে। এটি সি-সেকশনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত ঘি যোগ করার কোনো পুষ্টিগত কারণ নেই। গর্ভাবস্থা জুড়ে প্রতিদিন রান্নার জন্য ১ থেকে ২ চা চামচ পরিমাণ একই থাকা উচিত।

স্বাভাবিক প্রসবের জন্য খাদ্যতালিকা

খাবারের উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণের উপর মনোযোগ দিন, যেমন: পনির, ছোলা, ডাল (মুগ, মসুর), ডিম, দই

খাবারে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার যোগ করার ওপর মনোযোগ দিন, যেমন: গুড় + তিল (ঐতিহ্যবাহী এবং আয়রন-সমৃদ্ধ), সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, মেথি, সজনে পাতা, বিটরুট, ডালিম। ভালোভাবে শোষণের জন্য নির্ধারিত আয়রন সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ভিটামিন সি (লেবুর রস) গ্রহণ করুন।

শরীরকে আর্দ্র রাখুন। প্রসবের সময় ডিহাইড্রেশন ক্লান্তি বাড়াতে পারে এবং প্রসব বেদনাকে ধীর করে দিতে পারে। তাই তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। আপনার খাদ্যতালিকায় ডাবের পানি, ঘোল ইত্যাদি যোগ করে নিজেকে আর্দ্র রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button