সড়ক দুর্ঘটনায় উপার্জনের একমাত্র আলোটুকুও নিভে গেল: চালকের মৃত্যুতে নিঃস্ব পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয় নেই, কিন্তু মেটাতে হচ্ছে দৈনন্দিন ব্যয়ের নির্মম হিসাব। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলমগীরের পরিবার। স্বজন হারানো এই নিঃস্ব পরিবারটি কোনো করুণা কিংবা দান নয়, সরকারি সহায়তা এবং একমাত্র ছেলের একটি চাকরির ব্যবস্থা হলে মাথা তুলে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে বাঁচতে চায়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর সল্ট গোলা রেল ক্রসিং এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় গুরুতর আহত হন মোহাম্মদ আলমগীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি করানোর আগেই মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান।
নিহতের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমগীরের জীবনের গল্পটি ধারাবাহিক সংগ্রামের। করোনা মহামারীকালীন সময়ে তাঁর আগের ব্যবসা পুরোপুরি ধসে পড়ে। এরপর মাংস সরবরাহের ছোটখাটো ব্যবসায় নেমে লোকসানের মুখে তা-ও বন্ধ করতে হয়। সর্বশেষ পরিবারের খাদ্যের জোগান দিতে নিজের মোটরসাইকেলটি দিয়ে রাইড শেয়ারিং (পাঠাও ও উবার) চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। আকস্মিক দুর্ঘটনায় সেই একমাত্র আয়ের পথটিও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর মনছুরাবাদের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে চরম আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারটি। নিহতের স্ত্রী ইয়াসমীন আক্তার (৪০) একজন গৃহিণী। একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান ফাহিম (২০) এইচএসসি পাস করলেও পরিবারের চরম অভাব-অনটনের কারণে পড়াশোনা স্থগিত রেখে এখন হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছেন। আর ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান মাইসা (১৭) স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া।
নিহতের স্ত্রী ইয়াসমীন আক্তার চোখের পানি মুছে আকুতি জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন বা আশপাশের কারো কাছ থেকে কোনো সহায়তা মেলেনি। এখন বাসার ভাড়া দেওয়া দূরের কথা, দুই বেলা খাবারের সংস্থান করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছেলের একটি চাকরির ব্যবস্থা হলে হয়তো তারা এই কঠিন পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারতেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চালকের স্বজনদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য এবং ছেলের একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে তাঁরা সমাজে আর ১০টি সাধারণ পরিবারের মতো অন্তত বেঁচে থাকার ন্যূনতম অবলম্বন খুঁজে পাবেন।



