রাউজানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অন্যতম সহযোগী সহ গ্রেফতার তিন

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কথিত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলিক নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), পিতা বদিউল আলম, শাওয়াল খলিফার বাড়ি, রাউজান; মো. জাফর (৩৮), পিতা মো. মুসা, পূর্ব রাউজান; এবং মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯), পিতা মো. সেলিম উদ্দিন, পূর্ব রাউজান।
পুলিশ জানায়, রাউজান থানা পুলিশের একটি টহল দল রাত্রীকালীন স্পেশাল-৮ ডিউটিতে থাকা অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর রাউজান থানা পুলিশের টহল দল ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সমন্বিতভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফর কথিত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। পুলিশের দাবি, তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে পাওয়া অর্থ সংগ্রহ করে রায়হানের কাছে পৌঁছে দিতেন।
এ ছাড়া এলাকায় রায়হানের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তারা সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সাফায়েত হোসেন সিফাত রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানায়, রায়হানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। পাশাপাশি তার সহযোগী হিসেবে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অবৈধ অস্ত্র-শস্ত্র হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।



