হয়রানি ও দুর্নীতির আরেক নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার মানষ চন্দ্র দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে চরম হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অধিগ্রহণকৃত জমির পাওনা অর্থ ছাড় করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বিভিন্ন ধাপে কমিশন দাবি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড থেকে সাতবর্গ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজের জন্য ‘এলএ কেস নম্বর ০৮-২০২১/২০২২’-এর অধীনে ৮ ধারার নোটিশ জারি করে অধিগ্রহণ করা অনেকের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও স্থাপনা ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাওনা অর্থ পেতে আবেদন ফরম জমা দেওয়া থেকে শুরু করে নথি নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপে চরম বিলম্ব করা হয়। টাকা দ্রুত ছাড় করার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। অনৈতিক এই দাবিতে রাজি হলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলেও অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, ফাইল প্রস্তুত হওয়ার পরও তা এলএ শাখার কর্মকর্তা মানষ চন্দ্র দাসের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাব্বির নামে অপর এক কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যিনি সরাসরি ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। পরে প্রধান কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনিও একই অর্থ সরবরাহের ইঙ্গিত দেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। উক্ত কর্মকর্তার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে জেলা প্রশাসনের এই শাখায় অনিয়ম ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়েছে বলেও তারা অভিযোগ জানান।
তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট নথি, এলএ কেসের কার্যবিবরণী ও ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের হালনাগাদ রেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন।



